ইম্ফল
তিন বছর ধরে চলা হিংসা এখনও পুরোপুরি থামেনি মণিপুরে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে আরও ছ’মাসের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদানকারী আইন বা ‘আফস্পা’ (AFSPA) বহাল রাখল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অর্থাৎ, মণিপুরের একাধিক অঞ্চল আগামী ছ’মাসও ‘উপদ্রুত এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।
২০২৩ সাল থেকে কুকি ও মেতেই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে অশান্ত মণিপুর। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই হিংসায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে নিরাপত্তাবাহিনীও। গত মাসেই বিদ্রোহীদের হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। কাংপোকপি, সেনাপতি-সহ একাধিক জেলায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ২০২৩ সাল থেকে জারি থাকা ‘আফস্পা’র মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইতিমধ্যেই ‘আফস্পা’র আওতার বাইরে। তবে যেসব এলাকায় আইনটি এখনও কার্যকর, সেখানে বর্তমান মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।
অসমের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। ২০১৭ সাল থেকে কেন্দ্রের পরিবর্তে রাজ্য সরকারই পর্যায়ক্রমে ‘উপদ্রুত এলাকা’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে আসছে। অসমেও বর্তমান মেয়াদ সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। তবে তা আরও বাড়ানো হবে কি না, শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সে বিষয়ে এখনও কোনও নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
মণিপুরে অবশ্য গোটা রাজ্যজুড়ে ‘আফস্পা’ কার্যকর নয়। পাঁচটি জেলার ১৩টি থানার আওতাধীন এলাকাকে এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, নাগাল্যান্ডের একাধিক জেলাতেও ‘আফস্পা’ বহাল রাখা হয়েছে। ডিমাপুর, নিউল্যান্ড, চুমুকেডিমা, মন, কিফিরে, নকলাক, ফেক, পেরেন ও মেলুরি, এই ন’টি জেলার পাশাপাশি কোহিমা, মোককচুং, লংলেং, ওখা এবং জুনহেবোটো জেলার নির্দিষ্ট কিছু থানা এলাকাতেও আইনটি কার্যকর থাকবে।
অরুণাচল প্রদেশে তিরপ, চাংলাং ও লংডিং জেলায় ‘আফস্পা’র মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অসম-সংলগ্ন নামসাই জেলার নামসাই, মহাদেবপুর এবং চাউখাম থানা এলাকাতেও এই আইন বহাল থাকছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধীরে ধীরে ‘আফস্পা’র আওতা থেকে বেরিয়ে এলেও মণিপুরের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের কারণ। দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের আবহে সেখানে আইনটির মেয়াদ ফের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।