অতর্কিত হামলায় প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা, সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ-আক্রমণের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
দেবকিশোর চক্রবর্তী
প্রয়াত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম উত্তেজনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের এলাকায় পৌঁছতেই একদল বিজেপি সমর্থক তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আক্রমণের চেহারা নেয়। তাঁর দিকে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়, ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এমনকি তাঁর পরনের পোশাকও ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একজন জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত জাতীয় স্তরের নেতার উপর এ ধরনের অতর্কিত আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তৃণমূলের দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত এবং এই হামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণসংশয় পর্যন্ত তৈরি হতে পারত। ঘটনাস্থলে তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা তাঁর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হামলা। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের একজন নেতাকে লক্ষ্য করে যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই মনে করছে শাসকদল। তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতি সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের সহায়তায় তিনি প্রয়াত সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান। শোকাহত বাবা-মা ও পরিজনদের পাশে বসে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং সমবেদনা জানান।
পরিবারের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন যে সঞ্জু কর্মকারের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না সঞ্জুর পরিবার সুবিচার পাচ্ছে, ততক্ষণ এই পরিবারের পাশেই থাকব। পরিবারের ন্যায্য দাবি আদায়ে যা যা করণীয়, সবকিছু করা হবে।”এই আশ্বাসে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা ভরসা পেলেও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর একাংশও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।