আমরা শিক্ষক হিসাবে আর সম্মান পাবো? প্রশ্ন তুলে 'অন্নপূর্ণা'র দায়িত্ব এড়াতে বিএলওদের গণ-ডেপুটেশন
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’র জায়গায় রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ লাঘু হওয়ার শুরুতেই চরম বিপত্তি। এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে ভোট পর্ব উতরে দেওয়া, সব কাজই এতদিন মুখ বুজে টেনেছেন বুথ স্তরের নির্বাচনী আধিকারিক বা বিএলও-রা। কিন্তু এবার যে নির্দেশ পেলেন তারা তাতে এবার তাঁদের যেন পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে। বারাসত ২ নম্বর ব্লক, বাগদা ও বসিরহাটে বিডিও অফিসের সামনে বিএলও-দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ প্রশাসনের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের এক সরকারি মেসেজেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিএলও-রা দাবি করলেন, তাঁদের কাছে নির্দেশ এসেছে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই নতুন প্রকল্পের ফর্ম পূরণের তদারকি করতে হবে। আর এখানেই উঠছে নানা প্রশ্ন। বিএলও-রা জানালেন, আমারা শিক্ষকেরা ক্লাসরুমে চক-ডাস্টার হাতে নিয়ে শিক্ষকতা করব, কেন অন্নপূর্না যোজনার মত সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে? তাঁদের প্রশ্ন, স্কুলের পড়াশুনো লাটে তুলে যদি তাঁদের অন্নপূর্না যোজনা সচল করতে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে হয় তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার কী হবে?
বিএলওদের এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে অবশ্য একাধিক যুক্তিসংগত কারণ। তাঁদের যুক্তি, এসআইআরের কাজ দায়িত্ব নিয়ে করার পরও এলাকার মানুষের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। সরকারি নিয়মের গেরোয় এসআইআরে অনেকেরই নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে, আর সেই ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ বিএলও-দের ওপর। এখন অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ করতে গেলেও একই পুনরাবৃত্তি ঘটবে না তা কে বলতে পারে। বিএলওরা আশঙ্কা করছেন, সরকারি মাপকাঠির কারণে বহু মানুষ এই অন্নপুর্না যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আর গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ যখন এই প্রকল্পের সুবিধে পাবেন না, তখন তাঁরা নবান্নে গিয়ে ক্ষোভ উগড়াবেন না,তাঁরা কলার ধরবেন পাড়ার সেই পরিচিত বিএলও অর্থ্যাৎ এলাকার শিক্ষকের।
এদিন বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এক শিক্ষিকা জানালেন, আমাদের মূল কাজ হল শিক্ষকতা করা। পড়ুয়াদের শিক্ষাদান করে তাদের উপযুক্ত করে তোলা। কিন্তু সরকারি নানা কাজ সামালোনার ফলে স্কুলে ঠিকমত সময় দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পড়ুয়ারা সঠিক শিক্ষাদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্দেশ মত যেকাজগুলো শিক্ষকরা করতে বাধ্য, তা অবশ্যই করব। কিন্তু বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে আমাদের শিক্ষকতার পেশা থেকে দুরে সরিয়ে রাখলে তা মানতে পারব না। তাই অন্নপূর্না যোজনার সুবিধে পাইয়ে দিতে ১২ পাতার ফর্ম বুঝিয়ে তাকে ফিলাম করানো যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। আর এই কাজে যদি কোন মানুষ সন্তুষ্ট হতে না পারে তবে তার দায় এসে পড়বে বিএলও-র উপর। ফলে এলাকায় সম্মানহানির আশঙ্কা থেকে যাবে।
বিএলও-দের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া আর কোনো বাড়তি চাপানো কাজের ‘বলির পাঁঠা’ তাঁরা হবেন না।তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি খামখেয়ালিপনার দায় আর জনরোষের ঝুঁকি কেন সরকারি কর্মীরা নিজেদের ঘাড়ে নেবেন?