‘তৃতীয় বার অস্কারের দৌড়ে বিক্রম ঘোষ, এবার আশার পারদ আরও উঁচু’

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 7 h ago
তৃতীয় বার অস্কারের দৌড়ে বিক্রম ঘোষ
তৃতীয় বার অস্কারের দৌড়ে বিক্রম ঘোষ
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ

আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর নাম নতুন নয়। প্রায় চার দশকের সঙ্গীতজীবন, গ্র্যামি মনোনয়ন, বিশ্বব্যাপী সহযোগী প্রজেক্ট, সব কিছু সত্ত্বেও আজও নিজের শহর, নিজের কাজ, নিজের দর্শন থেকে এক ইঞ্চি সরেননি সুরকার ও বাদ্যশিল্পী বিক্রম ঘোষ। তবুও এ বছর তাঁর কাছে এক নতুন অধ্যায়। ‘মহামন্ত্র: দ্য গ্রেট চ্যান্ট’, পরিচালক গিরীশ মালিকের ইংরেজি এই ছবি অস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে দু’বার ‘ফিচার’ বিভাগে ‘জল’ ও ‘ব্যান্ড অফ মহারাজা’ ছবির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছেছিলেন তিনি। এ বার বিভাগ আলাদা, ‘ডকু ফিচার’। আর সেই কারণেই আশার আলো আরও স্পষ্ট দেখছেন শিল্পী।
 
তবে এই সাফল্য নিয়েও খুব বেশি ঢাকঢোল পেটানো তাঁর স্বভাব নয়। বরাবরই নিজের কাজ নিয়ে সংযত। বিক্রমের কথায়, ‘‘অনেকে খুব সাধারণ কাজকে রঙচঙে করে দেখাতে চান। আমি ঠিক তার উল্টো দিকে। কাজ যতটা, শব্দও ততটাই।’’ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক বাছাই পর্ব পেরিয়েছে ‘মহামন্ত্র’। সামনে আরও পর্যায় রয়েছে। শেষে মনোনয়ন তালিকায় নাম উঠবে কি না, তার অপেক্ষা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে পথ পেরিয়ে এসেছে তাঁর কাজ, সেটাই তাঁকে আবারও আত্মবিশ্বাসী করছে।
 
অস্কারের দৌড়ে এটাই তাঁর তৃতীয় যাত্রা। স্মৃতিচারণায় বিক্রম বলেন, ‘‘আগের দু’বারই প্রবল আশা ছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতা ছিল ভয়ানক। ছিটকে গিয়েছি, তবু কোনও আক্ষেপ নেই। ‘জল’-এর সঙ্গে মনোনয়ন তালিকায় ছিল ‘ইন্টারস্টেলার’। সেখান পর্যন্ত পৌঁছোনোই কম নয়।’’ এবার বিভাগ বদলেছে। তাঁকে মনে করাচ্ছে আরও সম্ভাবনার কথা।
 
তবে অস্কারের স্বীকৃতি, গ্র্যামির মনোনয়ন, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট, কিছুর জন্যই তিনি কখনও কলকাতা ছেড়ে যাননি। কেন? তাঁর উত্তরও স্পষ্ট, গ্ল্যামার নয়, তিনি বেছে নিয়েছেন কাজকে। ‘‘সঞ্জয় লীলা ভন্সালী আমাকে তিনটি ছবির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ফিরিয়ে দিই,’’ জানালেন বিক্রম। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিল্পীর সরল স্বীকারোক্তি, “মুম্বইয়ে গেলে এখানকার কাজ ছেড়ে থাকতে হত। আমি একটু ঘরকুনো, আর মুম্বইয়ের প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় ঢুকতে চাইনি। কলকাতায় আমি আমার নিজের ধাচে কাজ করি। আমি পরিষ্কার জানি জীবনে কী চাই। টাকা নয়, ভাল কাজ। তাই বাংলা সিনেমাও করি, যদিও আর্থিক লাভ কম।’’
 
কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর শর্ত একই, কোয়ালিটি। নাচগানের প্রচলিত ছবিতে তিনি কাজ করতে রাজি নন। ‘‘বিক্রম ঘোষকে যদি নেন, তবে তাকে বিক্রম ঘোষ হতে দিতে হবে,’’ তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য। তাই সকল প্রস্তাবই তাঁর কাছে আকর্ষণীয় নয়। ‘‘চিত্রনাট্য আমার কাছে প্রথম। সময় দিয়ে কাজ করতে চাই।’’, এ কথাই বললেন ‘ডিয়ার মা’ ও ‘দেবী চৌধুরানি’র সুরকার।
 
বিক্রমের বাবা শঙ্কর ঘোষের শেখানো শিক্ষা এখনও তাঁর পথপ্রদর্শক। ‘‘বাজনার দাম যেন পাঞ্জাবির দামের চেয়ে কম না হয়’’, এই মন্ত্র তিনি আজও মেনে চলেন। একদিকে আন্তর্জাতিক জগতে পরিচিতি, অন্যদিকে বাংলা সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহ। কারণ তাঁর বিশ্বাস, বাংলা সিনেমার সামর্থ্য বিশ্বমঞ্চে পৌঁছোনোর। এই ভাষার ছবির মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই শক্তি।
 
সম্ভবত এখানেই বিক্রম ঘোষকে আলাদা করে দেখায় সময়। প্রচার নয়, সাফল্যের বহর নয়, তিনি বিশ্বাস করেন সংগীতের মধ্যে। তাই না হয় কলকাতা ছেড়ে গেলেন না, বিশ্বের আলোয় থেকেও নিজের পথে চললেন। আর এই ধারাতেই তৃতীয় বার তাঁর ছবি পৌঁছোল অস্কারের দৌড়ে। বাকি এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে শিল্পীর ভরসা, তাঁর কাজই পথ দেখাবে, আগের মতোই।