চায়ের কাপে কলকাতার ইতিহাস, হেরিটেজ তকমা পেতে চলেছে চিত্তবাবুর দোকান-সহ ৭ চায়ের আড্ডা
কলকাতা:
কলকাতার সংস্কৃতিতে চা শুধু পানীয় নয়, আড্ডা ও শহুরে জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই চায়ের আড্ডাকেই এবার ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগী হল টি-বোর্ড। ডেকার্স লেনের জনপ্রিয় চিত্তবাবুর দোকান-সহ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সাতটি শতবর্ষী চায়ের দোকানকে হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অফিসপাড়ার ব্যস্ততার মাঝেও ডেকার্স লেনের চিত্তবাবুর দোকানে এক কাপ চা আর সঙ্গে টুকিটাকি খাবার বহুদিন ধরেই কলকাতার নিজস্ব নস্টালজিয়ার অংশ। শহরের বাইরের মানুষও এই দোকানের পরিচিত স্বাদের টানে আসেন। এবার সেই ঐতিহ্যকেই ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টি-বোর্ডের চিহ্নিত তালিকায় চিত্তবাবুর দোকান, বলবন্ত সিং ধাবা, কোনা দোকান এবং ন্যাশনাল ইকনমিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি শতবর্ষী চায়ের দোকানের তালিকায় রয়েছে শ্রীরামপুরের নরেশবাবুর টি স্টল। টি-বোর্ড আরও এমন পুরনো চায়ের দোকানের সন্ধান করছে।
শুধু স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, এই পুরনো দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। টি-বোর্ডের চেয়ারম্যান সি মুরুগান জানিয়েছেন, কোনও দোকান মালিক চাইলে বোর্ড তাঁদের দোকানের সৌন্দর্যায়নে সহযোগিতা করবে। লক্ষ্য, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐতিহ্য বজায় রেখে এই দোকানগুলিকে নতুনভাবে তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ কলকাতার বহু পুরনো চায়ের দোকান শুধু খাবার বা পানীয় বিক্রির জায়গা নয়—সেগুলি শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিরও অংশ। চায়ের কাপ ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য আড্ডা, ব্যবসায়িক আলোচনা, রাজনৈতিক কথাবার্তা এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি।
টি-বোর্ড একই সঙ্গে চা-বাণিজ্যের নিলাম ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক সেমিনারে ই-অকশন বা অনলাইন চা নিলাম ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে চা বিক্রির পাশাপাশি লাইসেন্স ও শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনলাইন ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে বোর্ড।
অর্থাৎ, একদিকে চায়ের পুরনো আড্ডাগুলিকে নতুন সাজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, অন্যদিকে চা-বাণিজ্যকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা—দুই পথেই এগোচ্ছে টি-বোর্ড। কলকাতার চায়ের কাপে এবার তাই ঐতিহ্যের স্বাদ ও আধুনিকতার ছোঁয়া—দুটিই একসঙ্গে।