শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ইংরেজবাজার; একটি সাধারণ শহর, যেখানে প্রতিদিনের জীবনের ব্যস্ততার আড়ালেই জন্ম নিচ্ছে অসাধারণ কিছু স্বপ্ন। সেই স্বপ্নেরই এক উজ্জ্বল নাম রাফা ইয়াসমিন। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নিজের কণ্ঠের জাদুতে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন জাতীয় স্তরের একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে।
২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মালদায় জন্ম রাফা ইয়াসমিনের। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তাঁর স্বাভাবিক আকর্ষণ চোখে পড়ে পরিবারের সবার। গান তাঁর কাছে শুধু বিনোদন নয়, বরং অনুভূতি প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম। বর্তমানে তিনি মালদার সবুজ অবুজ শিশু অঙ্গন স্কুলে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত রেওয়াজ ও গানচর্চাই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাফা ইয়াসমিন
রাফার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর পরিবারের নিরন্তর সমর্থন। মা তানিয়া ইয়াসমিন মেয়ের প্রতিভাকে শৈশব থেকেই যত্নে লালন করেছেন। অন্যদিকে বাবা রাজ্জাক হোসেন সবসময় পাশে থেকে মেয়ের স্বপ্নপূরণের পথকে সহজ করে তুলেছেন। সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা ননরাফা পরিবার থেকেই পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও এগিয়ে চলার প্রেরণা।
২০১৯ সালে স্টার জলসার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সুপার সিঙ্গার জুনিয়র’-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাফা ইয়াসমিন প্রথম বৃহত্তর দর্শকমহলের নজরে আসেন। তাঁর কণ্ঠের স্বচ্ছতা, সুরের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করে। এরপর ২০২০ সালে স্টার প্লাসের ‘তারে জমিন পর’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি আরও একবার নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের পর ২০২২ সালে ‘সা রে গা মা পা লিল চ্যাম্পস’-এর মঞ্চে পৌঁছে রাফা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক সম্ভাবনাময় কিশোরী শিল্পী হিসেবে।
স্টেজে পারফরম্যান্সের সময় রাফা ইয়াসমিন
ইসলাম ধর্মাবলম্বী রাফা ইয়াসমিন বিশ্বাস করেন, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা। অল্প বয়স হলেও তাঁর কণ্ঠে রয়েছে পরিণত ভাব, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
আজ রাফা ইয়াসমিন কেবল একটি নাম নয়, বরং ছোট শহরের অসংখ্য প্রতিভাবান শিশুর জন্য এক অনুপ্রেরণা। তাঁর যাত্রাপথ প্রমাণ করে দেয়, সঠিক সুযোগ, অধ্যবসায় ও পরিবারিক সমর্থন থাকলে মফস্বল শহর থেকেও পৌঁছানো যায় বড় মঞ্চে। রাফা ইয়াসমিন সেই সুরেলা স্বপ্নেরই জীবন্ত উদাহরণ।