যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তর করে CA পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্কে ৩৫তম স্থান অর্জন করলেন মহম্মদ কাইফ খান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
মহম্মদ কাইফ খান
মহম্মদ কাইফ খান
 
আওয়াজ- দ্য ভয়েস

সংগ্রাম, দায়িত্ব এবং অদম্য মনোবলের এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে মহম্মদ কাইফ খানের সাফল্যের গল্প। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সিএ (CA) ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্কে ৩৫তম স্থান অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠিন পরিস্থিতিও দৃঢ় সংকল্পের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য। ব্যক্তিগত ক্ষতি, শারীরিক অসুস্থতা এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি র‍্যাঙ্ক নয়, বরং অধ্যবসায় ও অটল পরিশ্রমের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
 
কর্ম, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মধ্যে লড়াই
 
পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কাইফ একটি পূর্ণকালীন চাকরিও করছিলেন, যার ফলে তাঁর প্রায় ৫০টি লেকচার সম্পূর্ণ করা বাকি ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এর জন্য পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন, তাই ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি তাঁর চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি পরবর্তী দুই মাস নিজের লেকচার সম্পূর্ণ করা এবং পাঠ্যক্রম পুনরাবৃত্তি করতে ব্যয় করেন।
 
মহম্মদ কাইফ খানের পরীক্ষার ফলাফল
 
পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, ডিপ্লোপিয়া (দ্বৈত দৃষ্টি)। যার কারণে ১ অক্টোবর তাঁর চোখের অপারেশন করতে হয় এবং এরপর তাঁকে ১০ থেকে ১৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়।
 
পরিবারের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি
 
কাইফ মূলত আজমগড়ের বাসিন্দা এবং চার বছর আগে তাঁর পিতার চিকিৎসার জন্য ভিওয়ান্ডিতে গিয়েছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর খুব অল্প বয়সেই তাঁকে পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাইফ জানান, পিতাকে হারানোর পর জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই সময়েই তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (Chartered accountancy) পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
 
তিনি আরও বলেন, তিনি কখনও হতাশ হননি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর মা এবং ভাইবোনদের জন্য তাঁকে এগিয়ে যেতেই হবে।
 
ব্যর্থতা তাঁর কাছে বাধা হয়ে ওঠেনি
 
স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং পারিবারিক দায়িত্বের সম্মুখীন হওয়ার পরও কাইফ আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, যখন পরীক্ষার ঠিক আগে তাঁর সমস্ত নোটসমৃদ্ধ ব্যাগটি চুরি হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতেও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
 
প্রতীকী ছবি
 
গঠনমূলক সহায়তা এবং নির্দেশনা
 
কাইফ তাঁর প্রস্তুতি পুনরায় শুরু করার জন্য সিএ ওয়াল্লাহর সহায়তা নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমি ইতিমধ্যেই সিএ ফাউন্ডেশনে সিএ ওয়াল্লাহর সঙ্গে পড়াশোনা করেছিলাম, তাই আমি তাদের ইন্টারমিডিয়েট কোর্সে ভর্তি হই। একটি সুসংগঠিত কোর্স পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক নির্দেশনার সহায়তায় আমি ধীরে ধীরে আমার আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করতে সক্ষম হই।" তিনি আরও তাঁর শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যাঁরা এই যাত্রায় তাঁকে সহায়তা করেছেন।
 
কাইফের সাফল্য শুধু একটি পদমর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাহস, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনও হার না মানার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। পড়াশোনা, কাজ এবং জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করা শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, দৃঢ়তা ও একাগ্রতার মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।