টায়ারের দোকানির কন্যা বিহারের মেট্রিক পরীক্ষার টপার: শাব্রিন পারভীনের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 8 h ago
টায়ারের দোকানির কন্যা বিহারের মেট্রিক পরীক্ষার টপার: শাব্রিন পারভীনের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা
টায়ারের দোকানির কন্যা বিহারের মেট্রিক পরীক্ষার টপার: শাব্রিন পারভীনের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা
 
নয়া দিল্লি

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই যে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, তা আবারও প্রমাণ করে দেখাল বিহারের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে শাব্রিন পারভীন। সোমবার ঘোষিত বিহার বোর্ডের মেট্রিক পরীক্ষা (BSEB)-তে শাব্রিন রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সকলের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। বৈশালী জেলার চেহরা কলান ব্লকের অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম ছৌরাহির বাসিন্দা শাব্রিন পারভীন।
 
টায়ারের দোকান চালানো এক পিতার কন্যা শাব্রিন পরীক্ষায় ৪৯২ নম্বর অর্জন করেছে, যা ৯৮.৪ শতাংশের সমতুল্য। এর মাধ্যমে সে সমগ্র বিহার রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে শাব্রিন জানায়, যখন তার ভাই ফোনে তাকে জানায় যে সে শুধু পাশই করেনি, বরং রাজ্যের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে, তখন সে নিজেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেনি।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান যে পর্দা প্রথার নামে মহিলাদের সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা বা অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার তিনি কঠোর বিরোধী। তার মতে, “মেয়েদেরসহ সকলেরই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সমান সুযোগ থাকা উচিত।”
 
শাব্রিনের এই অসাধারণ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো ছৌরাহি গ্রামে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গ্রামের মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এই গর্বের মুহূর্ত একসঙ্গে উদযাপন করে।
 
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় শাব্রিন পারভীন জানায়, “আমি বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউবের মাধ্যমেও পড়াশোনা করতাম। আমার পড়াশোনায় আমার ভাইও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।”
 
ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা শাব্রিন জানায়, সে খুব শীঘ্রই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে।
 
বিহার স্কুল পরীক্ষার বোর্ডের অধ্যক্ষের সঙ্গে শাব্রিন পারভীন
 
তার পিতা মহম্মদ সাজ্জাদ আলম পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটে একটি টায়ারের দোকান চালান এবং তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
 
তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় শাব্রিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল এবং জীবনে বিশেষ কিছু অর্জনের স্বপ্ন সে সবসময় লালন করত। সংবাদমাধ্যমের সামনে তার পিতা জানান, কন্যার এই অসাধারণ ফলাফলে পুরো পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।
 
সংবাদমাধ্যমের লোকজন যখন শাব্রিনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিল, তখন উপস্থিত তার দাদি বলেন যে শাব্রিন এই তীক্ষ্ণ মেধা তার দাদার কাছ থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তিনি হিন্দিতে বলেন, “সব ইসকে দাদা কি দেন হ্যায়” (অর্থাৎ, এই সবই তার দাদার অবদান)। তিনি আরও জানান, দাদার তত্ত্বাবধানে শাব্রিন মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই কোরআন পড়তে শিখেছিল।
 
পরিবারের সঙ্গে শাব্রিন পারভীন
 
জামুই জেলার সিমুলতলার পুষ্পাঞ্জলি কুমারীও ৪৯২ নম্বর পেয়ে শাব্রিনের সঙ্গে যৌথভাবে এই পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান সময়ে কন্যা সন্তানরাও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে সক্ষম এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরছে। বিহারের শিক্ষামন্ত্রী সুনীল কুমার বোর্ডের সভাপতি আনন্দ কিশোরের উপস্থিতিতে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
 
এই ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জনকারীদের তালিকায় ছাত্রীরা অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করেছে, যা আবারও প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কন্যা সন্তানরাও যেকোনো সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে।