শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (জেইই মেন)-এর প্রথম সেশনের ফলপ্রকাশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ উজ্জ্বল করলেন কুন্তল চৌধুরী। সোমবার পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা National Testing Agency (এনটিএ) ফল ঘোষণা করে। সর্বভারতীয় তালিকায় ১০০ পার্সেন্টাইল পাওয়া ১২ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রার্থী না থাকলেও, রাজ্যভিত্তিক শীর্ষস্থানাধিকারীদের তালিকায় সবার ওপরে উঠে এসেছেন কুন্তল। তাঁর প্রাপ্ত পার্সেন্টাইল ৯৯.৯৯৮৪৯০৮—যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবারের প্রথম সেশনের পরীক্ষায় মোট ১২ জন পরীক্ষার্থী ১০০ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন রাজস্থানের, দু’জন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং একজন করে দিল্লি (এনসিটি), বিহার, ওড়িশা, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তেলাঙ্গানার। ১০০ পার্সেন্টাইল প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন—শ্রেয়স মিশ্র (দিল্লি এনসিটি), নরেন্দ্রবাবু গারি মাহিথ ও পাসালা মোহিত (অন্ধ্রপ্রদেশ), শুভম কুমার (বিহার), কবীর চিল্লার, চিরঞ্জীব কর ও অর্ণব গৌতম (রাজস্থান), ভাবেশ পাত্র (ওড়িশা), অনয় জৈন (হরিয়ানা), মাধব বিরাদিয়া (মহারাষ্ট্র), পুরোহিত নিমাই (গুজরাট) এবং ভিভিয়ান শরদ মাহিশ্বরী (তেলাঙ্গানা)।
যদিও সর্বভারতীয় সেরাদের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই, তবুও কুন্তলের অসাধারণ সাফল্য রাজ্যবাসীর কাছে গর্বের। ৯৯.৯৯৮৪৯০৮ পার্সেন্টাইল অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে প্রতিযোগিতার এই কঠিন মঞ্চেও বাংলার ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে নেই। শিক্ষামহলের মতে, এত উচ্চ পার্সেন্টাইল ভবিষ্যতে দেশের শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।
এবারের জেইই মেন প্রথম সেশনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২১, ২২, ২৩, ২৪ এবং ২৮ জানুয়ারি—মোট পাঁচ দিনে। নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ১৩,৫৫,২৯২ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ১৩,০৪,৬৫৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশজুড়ে ৩২৬টি শহরের ৬৫৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি দেশের বাইরে ১৫টি শহরেও পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলির মধ্যে ছিল কাঠমান্ডু, দোহা, কুয়েত সিটি, কুয়ালামপুর, ওয়াশিংটন, মিউনিখ, আবুধাবি ও রিয়াধের মতো শহর।
এদিন প্রথম সেশনের প্রথম পত্রের (বি.ই বা বি.টেক) ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এনটিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পত্রের (বি.আর্ক বা বি.প্ল্যানিং) ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। ফলে এখনই চূড়ান্ত মেধাতালিকা সম্পূর্ণ হচ্ছে না।সব মিলিয়ে, এবারের জেইই মেনের ফলাফলে সর্বভারতীয় পর্যায়ে অন্য রাজ্যের প্রার্থীরা শীর্ষস্থান দখল করলেও, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কুন্তল চৌধুরীর এই কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।
কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং লক্ষ্যভেদী প্রস্তুতির ফলস্বরূপ তিনি রাজ্যের সেরা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বহু পরীক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহল।