জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) স্কুলগুলির জন্য শিক্ষাবর্ষ ২০২৬–২৭-এর ভর্তি প্রস্পেক্টাস
আওয়াজ দ্যা ভয়েস / নয়াদিল্লি
শিক্ষার জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মধ্য দিয়ে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) তাদের স্কুলগুলির জন্য শিক্ষাবর্ষ ২০২৬–২৭-এর ভর্তি প্রস্পেক্টাস প্রকাশ করল। উপাচার্য অধ্যাপক মজহার আসিফ এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহম্মদ মহতাব আলম রিজভির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্পেক্টাসের উন্মোচন হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এহতেশামুল হক এবং প্রস্পেক্টাস প্রস্তুতকারী কমিটির সদস্যরা।
প্রস্পেক্টাস প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নার্সারি, প্রিপারেটরি, প্রথম, ষষ্ঠ, নবম এবং একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট admission.jmi.ac.in-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের এক সভা
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, বিদেশি নাগরিক ও এনআরআই ওয়ার্ড প্রার্থীদের জন্য এই ফি রাখা হয়েছে ১৫০০ টাকা। মুশির ফাতিমা নার্সারি স্কুল, জামিয়া মিডল স্কুল, জামিয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, সৈয়দ আবিদ হুসেন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল (স্ব-অর্থায়িত) এবং জামিয়া গার্লস সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল (সেল্ফ-ফাইন্যান্স), এই সমস্ত বিদ্যালয়ের জন্যই আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রস্পেক্টাসে প্রতিটি স্কুল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ও বিস্তারিত তথ্য সংযোজিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, আসন সংখ্যা, লটারি বা লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য দিনক্ষণ, নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের সময় এবং ক্লাস শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের অনুরোধ জানিয়েছে, আবেদন করার আগে যেন প্রস্পেক্টাসটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ভর্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, শিক্ষাবর্ষ ২০২৬–২৭-এ জামিয়ার কোনো স্কুলেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফি বৃদ্ধি করা হয়নি। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত অভিভাবকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর।
এই প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক মজহার আসিফ বলেন, জামিয়া স্কুলগুলি কেবল শিক্ষাকেন্দ্র নয়, বরং ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার এক সুদৃঢ় ভিত্তি। তাঁর কথায়, “আমরা চাই জামিয়া স্কুলগুলি আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হোক, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের শিশু সমান সুযোগ পায়। বিশেষ করে মেয়েদের এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকাঠামো ও সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।”
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত টিউটর ও স্পেশাল এডুকেশনের ক্ষেত্রে গবেষণারত জেআরএফ স্কলারদের নিয়োগ করা হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জামিয়া তাদের স্কুলগুলির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে সংযোগ বাড়াচ্ছে বলে জানান উপাচার্য। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুসারে মূল্যবোধভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহম্মদ মহতাব আলম রিজভি সময়মতো প্রস্পেক্টাস প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “জামিয়া স্কুলগুলি এই ১০৫ বছরের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। এখানকার শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় নয়, সাংস্কৃতিক চেতনা ও ঐতিহাসিক বোধ গড়ে তুলতেও সমান গুরুত্ব দেন।” তিনি আরও জানান, পড়াশোনা, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যকলাপ এবং খেলাধুলার মধ্যে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করা হয়।
এই শিক্ষাবর্ষের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হল, ষষ্ঠ, নবম এবং একাদশ শ্রেণির (বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য শাখা) জন্য মাল্টি-সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট। দিল্লির পাশাপাশি লখনউ, পাটনা, কলকাতা এবং শ্রীনগরে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য জামিয়া স্কুলে পড়ার সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের এক সভা
এদিকে, বালক মাতা কেন্দ্রগুলির জন্য অফলাইন আবেদনপত্র ৫ মার্চ ২০২৬ থেকে পাওয়া যাবে। ৫০ টাকা আবেদন ফি-সহ আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬। মাটিয়া মহল, কাস্সাবপুরা এবং বেরিওয়ালা বাগে অবস্থিত কেন্দ্রগুলি থেকেই এই ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এহতেশামুল হক জানান, ভর্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। তিনি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন, স্কুল প্রধান ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
সব মিলিয়ে, জামিয়া স্কুলগুলির ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রস্পেক্টাস গুণগত শিক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃঢ় অঙ্গীকারকেই আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল।