নয়াদিল্লি
শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানসিক ও আবেগগত সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) তাদের বার্ষিক বিনামূল্যের সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং পরিষেবার প্রথম ধাপ চালু করতে চলেছে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই পরিষেবা শুরু হবে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এবং চলবে ১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। এটি প্রযোজ্য হবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পরীক্ষাজনিত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও আবেগগত সমস্যার মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যাতে তারা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলা তাত্ত্বিক পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাস, মানসিক ভারসাম্য ও স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা নিয়ে অংশ নিতে পারে।
পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হল ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা। শিক্ষার্থীরা ১৮০০১১৮০০৪ নম্বরে ফোন করে ইন্টার্যাকটিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম (আইভিআরএস)-এর মাধ্যমে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় সার্বক্ষণিক সহায়তা পেতে পারবে। এই পরিষেবার আওতায় থাকবে চাপমুক্তভাবে পড়াশোনার কৌশল, সময় ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ, পরীক্ষাসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তর এবং সিবিএসই-র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য।
এছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন ৭৩ জন প্রশিক্ষিত পেশাদারের সঙ্গে। এই প্যানেলে রয়েছেন সিবিএসই অনুমোদিত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, কাউন্সেলর, বিশেষ শিক্ষক এবং পেশাদার মনোবিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে ৬১ জন কাউন্সেলর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত, পাশাপাশি নেপাল, জাপান, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রয়েছেন আরও ১২ জন, যাঁরা স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে পরিষেবা দেবেন।
পরীক্ষার মানসিক চাপ কমানো, কার্যকর পড়াশোনার কৌশল এবং আবেগগত সুস্থতা বিষয়ক বাছাই করা বিভিন্ন উপকরণ সিবিএসই-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও উপলব্ধ রয়েছে। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এই উপকরণগুলি সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য ও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারবান্ধব করে তৈরি করা হয়েছে।
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এই পরিষেবাগুলি সক্রিয়ভাবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহ জানিয়েছে সিবিএসই।
উল্লেখ্য, সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং পরিষেবা সিবিএসই-র একটি বার্ষিক কর্মসূচি, যার উদ্দেশ্য পরীক্ষার মরসুমে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করা। ২০২৫ সালে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছিল।