আওয়াজ দ্য ভয়েস / নয়াদিল্লি
নয়াদিল্লিতে সুফি পরম্পরা, জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ দেখা গেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অল ইন্ডিয়া সুফি সাজ্জাদানশীন কাউন্সিল (AISSC)-এর একটি উচ্চস্তরের প্রতিনিধিদল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।এই প্রতিনিধিদলটি আজমের দরগাহের বর্তমান আধ্যাত্মিক প্রধানের উত্তরাধিকারী এবং AISSC-এর চেয়ারম্যান হজরত সৈয়দ নসরুদ্দিন চিশতির নেতৃত্বে দিল্লিতে পৌঁছায়।
— IANS (@ians_india) January 11, 2026
এই উপলক্ষে হজরত সৈয়দ নসরুদ্দিন চিশতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান যে, গত ১০–১৫ বছর ধরে অল ইন্ডিয়া সুফি সাজ্জাদানশীন কাউন্সিল (AISSC) দেশজুড়ে সুফি পরম্পরার মূল মূল্যবোধ— ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, মানবতা ও দেশপ্রেম— প্রচারের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতায় আজ দিল্লির নিজামুদ্দিন ওয়েস্ট এলাকায় AISSC-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এর উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। এই কার্যালয়টি শুধু সংগঠনের কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেই কাজ করবে না, বরং জাতীয় স্তরে সংলাপ ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও গড়ে উঠবে।
হজরত চিশতি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গেই AISSC একটি বিশেষ জাতীয় অভিযান “মেরা মুল্ক, মেরি পেহচান” শুরু করেছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষকে ভারতের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সুফি পরম্পরা এবং জাতীয় ঐক্যের বন্ধনে যুক্ত করা।তিনি বলেন, ভারতের দরগাহগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গঙ্গা-জমুনি তেহজিবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে, যেখানে কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সব ধর্ম, শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আসেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুফি পরম্পরা সবসময়ই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেছে।“দরগাহগুলো শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এগুলো পারস্পরিক ভালোবাসা, সংলাপ ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। আজ যখন সমাজে আদর্শগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, তখন সুফি চিন্তাধারা আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে,” তিনি বলেন।
এই ধারাবাহিকতায় AISSC-এর প্রতিনিধিদল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে দেশের সামাজিক ঐক্য, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা, যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা এবং সুফি পরম্পরার ভূমিকা—সহ একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট সুফি সাজ্জাদানশীন ও মুসলিম চিন্তাবিদরা অংশ নেন।
— IANS (@ians_india) January 11, 2026
সূত্র অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি NSA ডোভালের সঙ্গে এই বিষয়ে মতবিনিময় করেছে যে কীভাবে ভারতের সুফি ঐতিহ্যকে জাতীয় ঐক্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা যায়। প্রতিনিধিদলটি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করে যে, সুফি পরম্পরা উগ্রবাদ ও হিংসার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আদর্শিক বিকল্প উপস্থাপন করে, যা যুবসমাজকে শান্তি, সহাবস্থান এবং দেশপ্রেমের পথে পরিচালিত করতে পারে।
হজরত সৈয়দ নসরুদ্দিন চিশতি জানান, বৈঠকের সময় AISSC-এর বিভিন্ন কার্যক্রম, “মেরা মুল্ক, মেরি পেহচান” অভিযান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে NSA-কে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, এই সংলাপটি ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক, এবং উভয় পক্ষের মধ্যে মতামতের খোলামেলা আদান-প্রদান হয়েছে।“আমাদের বিশ্বাস, জাতির শক্তি কেবল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আসে না, বরং সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমেও গড়ে ওঠে,” তিনি বলেন।
AISSC জানিয়েছে যে, আগামী দিনে সংগঠন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংলাপ কর্মসূচি, যুব সংলাপ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সুফি বার্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। সংগঠনের লক্ষ্য হলো ভারতের বহুমুখী ও বহুত্ববাদী পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করা এবং এটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে দেশের বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
— IANS (@ians_india) January 11, 2026
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং NSA অজিত ডোভালের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ—উভয় ঘটনা নির্দেশ করছে যে সুফি নেতৃত্ব এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র বাড়ছে। এটি সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়কে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।