নয়া দিল্লি
সৌদি এক তরুণের সঙ্গে কেরালার তাঁর ‘হিন্দু মা’-এর বহু বছর পরের পুনর্মিলনের গল্পটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। মানুষ একে বলছেন, ঘৃণার শক্তিকে হার মানানো মানবতার জয়, এক আবেগঘন আলিঙ্গন। ভিডিওতে দেখা যায়, সৌদির পোশাক পরা এক যুবককে এক বয়স্ক কেরালার মহিলা জড়িয়ে ধরে আদর করে চুমু দিচ্ছেন। অনেক পোস্টেই তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বহু বছর আগে সৌদিতে কেরালার এক হিন্দু আন্টি ( Aunty) একটি বাড়িতে শিশুদের দেখাশোনা করতেন। সেইসব শিশুর মধ্যে ছিল একটি ছোট ছেলে, যাকে তিনি নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি আদর করতেন। অকৃত্রিম স্নেহ আর উষ্ণতায় তাকে বড় করেছিলেন তিনি।
সময় কেটে গেল। ছেলেটি বড় হয়ে উঠল, আন্টিও দেশে ফিরে এলেন। কিন্তু সেই মাতৃস্নেহের স্মৃতি তার হৃদয় থেকে কখনো মুছে গেল না। মাসের পর মাস সে খুঁজেছে তাঁকে। নানা জায়গা থেকে খোঁজখবর জোগাড় করেছে, তাঁর ঠিকানা পেয়েছে, টিকিট কেটেছে, আর অবশেষে পৌঁছে গেছে কেরালায়। তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে হৃদস্পন্দন যেন থমকে যাচ্ছিল… তিনি কি চিনতে পারবেন? তিনি কি মনে রাখেন সেই ভালোবাসা?
দরজা খুলে তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই মহিলার চোখ ভিজে উঠল। তিনি হাত বাড়িয়ে ডেকে উঠলেন, ‘বেটা!’ ছেলেটি ছুটে গেল তাঁর বুকে, যেমন ছোটবেলায় যেত। কান্নায় ভেঙে পড়ল। তিনি তার কপালে চুমু দিলেন, সেই আগের দিনের মতো স্নেহে।
সেই মুহূর্তে ধর্ম, দেশ, সীমানা, কিছুই আর গুরুত্ব পেল না… রয়ে গেল শুধু এক মা আর তাঁর সন্তানের নিখাদ ভালোবাসা।
হ্যাঁ, এমন মানুষ আজও আছে।” এই গল্পে সকল ধর্মের মানুষ একসুরে বলছেন, “ভালোবাসাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি।”