ইসলামাবাদে ফের শুরু হতে পারে আমেরিকা-ইরান আলোচনা, পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 4 h ago
ইসলামাবাদে ফের শুরু হতে পারে আমেরিকা-ইরান আলোচনা, পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত
ইসলামাবাদে ফের শুরু হতে পারে আমেরিকা-ইরান আলোচনা, পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত
 
ওয়াশিংটন ডিসি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী সপ্তাহেই ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে কাজ করছে, যা এক মাসব্যাপী আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং চলমান সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করতে পারে।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের সম্ভাব্য ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
 
সবচেয়ে বড় জটিলতার একটি হলো তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কতটা শিথিল করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রশ্নই আলোচনার অগ্রগতি বিলম্বিত বা জটিল করে তুলতে পারে।
 
আলোচনা এগোলে প্রাথমিক এক মাসের সংলাপ উভয় পক্ষের সম্মতিতে আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানা গেছে।
 
এদিকে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া ওই রাতেই পাওয়া যেতে পারে।
 
ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ে নিজের গলফ কোর্সে এক নৈশভোজে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত আজ রাতেই আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু শুনব।”
 
ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তা নিশ্চিত নই। খুব শিগগিরই আমরা জানতে পারব।”
 
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানান, ওয়াশিংটন শুক্রবারই ইরানের পক্ষ থেকে একটি জবাব প্রত্যাশা করছে এবং সেটি যেন “গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক প্রস্তাব” হয়, সেই আশা প্রকাশ করেন।
 
রোমে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “আজই আমরা কিছু জানতে পারি।”
 
বর্তমানে ইতালি ও ভ্যাটিকান সফরে রয়েছেন রুবিও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই চলছে তাঁর এই কূটনৈতিক সফর।
 
তিনি আরও বলেন, “গত এক ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।” ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও তিনি বিলম্বের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
 
রুবিওর ভাষায়, “তাদের প্রশাসনিক কাঠামো এখনও অত্যন্ত বিভক্ত ও অকার্যকর। সেটাই হয়তো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
 
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের জবাব একটি “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রক্রিয়ার” পথ খুলে দেবে।
 
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প “এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব” কথাটিকে খণ্ডন করে বলেন, “এটি শুধু এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নয়। এতে মূলত বলা হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না, তারা আমাদের কাছে পারমাণবিক উপাদানসহ আরও অনেক কিছু হস্তান্তর করবে।”
 
ইরানের নেতৃত্ব এসব শর্তে সম্মত হয়েছে কি না, এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “তারা সম্মত হয়েছে। কিন্তু তাদের সম্মতি সবসময় স্থায়ী হয় না। পরদিনই তারা ভুলে যায় যে তারা সম্মত হয়েছিল।”
 
তিনি আরও বলেন, “আমরা ভিন্ন ভিন্ন নেতৃত্বগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছি।”
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের পাল্টা আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা শুরু হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
 
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।
 
এদিকে ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।


শেহতীয়া খবৰ