ঢাকাঃ
বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে পরিবারের অন্তত পাঁচজন নারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও একই এলাকার সোবহান হাওলাদারের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
হামলার সময় পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আঘাত করা হয়। এতে আহত হন রবীন্দ্রনাথ ঢালীর স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), খালা বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সোবহান হাওলাদার ও তার ছেলে মিরাজ হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, জমিটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) রবীন্দ্রনাথ ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের নাইম ইসলাম।ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।