পানামায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর; ব্যাহত বিদ্যুৎ ও বিমান পরিষেবা
নয়াদিল্লি
পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা। শুক্রবার প্রথম কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭.৭ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৬.৬। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে একাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিমান চলাচল। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। পরপর কম্পন এবং একের পর এক আফটারশকের জেরে আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। পানামার পাশাপাশি প্রতিবেশী কলম্বিয়াতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কোথাও দীর্ঘক্ষণ ধরে মাটি কাঁপার অনুভূতি পেয়েছেন বাসিন্দারা, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর। প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২.৬ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল। এর কেন্দ্রস্থল ছিল পানামা সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ৪০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছিল। ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতির একাধিক দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। হেরেরা প্রদেশের বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলিতে ফেরার সাহস পাচ্ছেন না অনেকে, কারণ আফটারশকের জেরে ভবনগুলি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
৭৪ বছর বয়সি রিকার্ডো ব্রাউন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভীষণ ভয় পেয়েছি। এখানে আমরা দু’জন বৃদ্ধ মানুষ রয়েছি। বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, যদি বাড়িটা আমাদের উপর ভেঙে পড়ে!” তাঁর দাবি, লাস মিনাস এলাকায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী কম্পনের জেরে পানামায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে ভূমিকম্পে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য আরও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।