আকাশে তিন প্রতিবেশী দেশের মহড়া, রাজস্থানে একসঙ্গে উড়ল ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিমান
নয়াদিল্লি:
সামরিক সহযোগিতার নতুন ছবি দেখা গেল রাজস্থানের আকাশে। ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এ একসঙ্গে উড়ল ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ। তিন দেশের বিমান ‘ভিক’ (Vic) ফরমেশনে উড্ডয়ন করে। এই যৌথ উড্ডয়ন আকাশপথে সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর একসঙ্গে অভিযান চালানোর সক্ষমতার দিকটি তুলে ধরেছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের ঢাকার বিবৃতি অনুযায়ী, মহড়ার দ্বিতীয় সপ্তাহে জটিল আকাশযুদ্ধের অনুশীলনের মধ্যেই তিন দেশের উড়োজাহাজ নির্দিষ্ট ফরমেশনে একসঙ্গে ওড়ে। ভারতীয় বিমানবাহিনীও সম্প্রতি মহড়ার যৌথ উড্ডয়নের দৃশ্য প্রকাশ করেছে। ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এর মূল ভাবনা—‘পাওয়ার ইন পার্টনারশিপ’ বা অংশীদারত্বের শক্তি—এই অনুশীলনে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। রাজস্থানের যোধপুর বিমানঘাঁটি ও সংলগ্ন বিমানঘাঁটিগুলিতে চলছে এই বহুজাতিক মহড়া। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে অনুশীলন। মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আধুনিক আকাশযুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি। প্রথমে তুলনামূলক ছোট পরিসরে অনুশীলন হলেও ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে অভিযানের ব্যাপ্তি ও জটিলতা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে অভিজ্ঞতা, কার্যকর কৌশল এবং অভিযান পরিচালনার জ্ঞান বিনিময়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভারত ছাড়াও এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে সাতটি বিদেশি দেশের বিমানবাহিনী—অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, জার্মানি, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। ফলে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সামরিক পরিবহণকারী উড়োজাহাজ এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সক্ষমতা একই মহড়ায় যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী বিদেশি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ লাইটনিং টু, ফ্রান্সের রাফাল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এফ-১৬, এয়ারবাস এ৪০০এম, এমআরটিটি, সি-১৩০, সি-১৩০জে এবং অস্ট্রেলিয়ার কেসি-৩০এ। এই বিমানগুলির মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা, সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ চলছে।
‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীর একসঙ্গে উড্ডয়ন তাই শুধু একটি দৃশ্যমান মহড়ার মুহূর্ত নয়; বহুজাতিক সামরিক প্রশিক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। তবে এই যৌথ উড্ডয়নকে কোনও নতুন সামরিক জোট বা পৃথক প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। এটি বৃহত্তর বহুজাতিক বিমান মহড়ারই অংশ।