ঢাকা / বাংলাদেশ
রাম নবমীর পবিত্র উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ভক্তিময় পরিবেশে দিনটি উদযাপন করল বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। ২৭ মার্চ, ২০২৬ সকাল থেকেই শুরু হয় পুজো, যজ্ঞ ও আরতির আয়োজন। সকাল ১১টার দিকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের রাস্তায় বের হয়, যা শ্রী শ্রী সীতানাথ মন্দির থেকে শুরু হয়ে দয়াগঞ্জের শ্রী শ্রী শিব মন্দির অতিক্রম করে পুনরায় রাম-সীতা মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়ক বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি দুলাল চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি নিতাই দে সরকার, হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধু, মহাসচিব সুজন গাইন, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজীব কুণ্ডুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা ভগবান রামের আদর্শ ও শিক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরে রাম নবমীকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। শুধু ঢাকাতেই নয়, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ এবং পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পুজো, শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।
এদিকে ভারতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাম নবমীর দিন ভগবান রামের পুজো-অর্চনা করেন এবং অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দির-এ অনুষ্ঠিত ‘সূর্য তিলক’ অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি প্রত্যক্ষ করেন।
অযোধ্যায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ঠিক দুপুর ১২টায় সূর্যের একটি রশ্মি সরাসরি রামলল্লার মূর্তির কপালে এসে পড়ে, সৃষ্টি করে এক অলৌকিক তিলক। এই ‘সূর্য তিলক’ দৃশ্য ভক্তদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির জন্ম দেয়। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ ও পুজো-অর্চনার মধ্য দিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে অনন্য।
উল্লেখ্য, নয়দিনব্যাপী এই উৎসব, যা ‘রাম নবরাত্রি’ নামেও পরিচিত, দেবী শক্তির নয়টি রূপের আরাধনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং শেষ দিনে ভগবান রামের জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়।