মুর্শিদাবাদে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: মৃত্যুর পর অঙ্গদান করে চারজনকে নতুন জীবন দিলেন জাহানারা বিবি
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
মৃত্যুর পরও মানবতার আলো ছড়িয়ে দিলেন মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা ৫৮ বছরের জাহানারা বিবি। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর তাঁর অঙ্গদান আজ একাধিক মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অঞ্চলের মধ্যে তিনিই প্রথম যিনি মৃত্যুর পর অঙ্গদান করে এমন নজির স্থাপন করলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ছেলে মেহবুব আলমের সঙ্গে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহানারা বিবি। পথেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি এবং রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান করে জানা যায়, তিনি সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁর মস্তিষ্ক কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ৭ ডিসেম্বর তাঁকে ব্রেন-ডেড ঘোষণা করা হয়। এই কঠিন মুহূর্তে চিকিৎসকরা পরিবারের কাছে অঙ্গদানের প্রস্তাব দেন। প্রথমে পরিবার কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে সম্মতি দেয়। এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন জাহানারার ভাই, ভরতপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
এই বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “ধর্ম দানকে উৎসাহ দেয়। আমার মতে, মৃত্যুর পর অঙ্গদানের চেয়ে বড় দান আর কিছু হতে পারে না। আমার বোনের অঙ্গদান চারজন মানুষের জীবনে নতুন আলো নিয়ে এসেছে।”
জানা গিয়েছে, জাহানারা বিবির হৃদপিণ্ড প্রথমে উপযুক্ত গ্রহীতা না পাওয়ায় হায়দরাবাদে পাঠানো হয়, যেখানে ৭২ বছর বয়সী এক মহিলার শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর লিভার প্রতিস্থাপিত হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে ২৫ বছরের এক তরুণীর শরীরে। পাশাপাশি তাঁর দুটি কিডনি নতুন জীবন দিয়েছে ২১ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর সকল রোগীই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। জাহানারা বিবির এই মানবিক সিদ্ধান্ত শুধু চারটি জীবনই রক্ষা করেনি, বরং সমাজে অঙ্গদানের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে। মৃত্যুর পরও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই বিরল উদাহরণ ভবিষ্যতে আরও অনেককে অঙ্গদানে উদ্বুদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।