প্রযুক্তির ছোঁয়া নয়, প্রতিটি অক্ষরে ছয় বছরের নিষ্ঠা—ইস্তাম্বুলে আলী জামানের হাতে লেখা বিশাল কোরআন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
প্রযুক্তির ছোঁয়া নয়, প্রতিটি অক্ষরে ছয় বছরের নিষ্ঠা—ইস্তাম্বুলে আলী জামানের হাতে লেখা বিশাল কোরআন
প্রযুক্তির ছোঁয়া নয়, প্রতিটি অক্ষরে ছয় বছরের নিষ্ঠা—ইস্তাম্বুলে আলী জামানের হাতে লেখা বিশাল কোরআন
 
ইস্তাম্বুল: 
 
গহনা তৈরির পেশা ছেড়ে ক্যালিগ্রাফিকে জীবনের সাধনা বানিয়েছিলেন ইরাকি শিল্পী আলী জামান। দীর্ঘ ছয় বছরের পরিশ্রমের পর ইস্তাম্বুলে তিনি সম্পূর্ণ করেছেন বিশালাকায় হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের একটি অনুলিপি, যা বিশ্বের বৃহত্তম হাতে লেখা কোরআনগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে Guinness World Records এখনও এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৭১ সালে ইরাকের সুলায়মানিয়া গভর্নরেটের রনিয়া শহরে জন্ম আলী জামানের। ছোটবেলা থেকেই ইসলামি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে স্বর্ণকারের পেশা ছেড়ে তিনি পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফিতে মনোনিবেশ করেন। ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে ইস্তাম্বুলে চলে আসেন এবং সেখানেই শুরু করেন তাঁর সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

থুলুথ লিপিতে লেখা এই বিশাল কোরআনের প্রতিটি স্ক্রল প্রায় ৪ মিটার লম্বা ও ১.৫ মিটার চওড়া। পুরো পাণ্ডুলিপিটি ৩০২টি দ্বিমুখী স্ক্রল নিয়ে গঠিত। প্রতিটি অক্ষর হাতে লিখতে তিনি ঐতিহ্যবাহী খাগড়ার কলমসহ প্রথাগত উপকরণ ব্যবহার করেছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেননি।

ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি ছোট ঘরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতেন আলী জামান। ২০২৩ সালে গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাঁকে কিছু সময় কাজ বন্ধও রাখতে হয়েছিল। এর পাশাপাশি করোনা মহামারির সময় প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহেও সমস্যার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবুও থেমে থাকেননি।

ছয় বছরের নিরলস সাধনার শেষে ২০২৫ সালে সম্পূর্ণ হয় তাঁর এই অসাধারণ সৃষ্টি। বর্তমানে পাণ্ডুলিপিটি মিহরিমাহ সুলতান মসজিদেই সংরক্ষিত রয়েছে। আলী জামানের ইচ্ছা, ভবিষ্যতে এই কোরআন এমন কোনও জাদুঘর বা বিশেষ স্থানে রাখা হোক, যেখানে মানুষ তাঁর এই শিল্পকর্মকে দেখতে ও মূল্যায়ন করতে পারবেন।