আমেরিকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আজমের শরিফের প্রতিনিধি হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি, তুলে ধরলেন ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
আমেরিকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আজমের শরিফের প্রতিনিধি হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি, তুলে ধরলেন ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা
আমেরিকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আজমের শরিফের প্রতিনিধি হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি, তুলে ধরলেন ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা
 
 আমেরিকা: 

আমেরিকার ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটিতে (বিওয়াইইউ) আয়োজিত ৩৩তম আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্ম বিষয়ক সম্মেলনে আজমের শরিফ দরগাহ ও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করলেন দরগাহের ২৬তম প্রজন্মের গদ্দিনশিন হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি। ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিকাঠামো গড়ে তোলা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিক, আইনজ্ঞ, গবেষক ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

সম্মেলনের সূচনায় শান্তি, মর্যাদা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা করেন হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি। পরে ‘ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু: অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনাচক্রে অংশ নিয়ে তিনি ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন ভাসাই ডায়োসিসের আর্চবিশপ ফেলিক্স মাচাডো এবং অল কর্নাটক ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিনিধি পেরিচো পিটার প্রভু রঙ্গরাজ।

হাজি সালমান চিশতি বলেন, আট শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আজমের শরিফে হজরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি, গরিব নওয়াজের দরগাহে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা একসঙ্গে সমবেত হন এবং একই নিরামিষ লঙ্গরে অংশ নেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ভারতের সংবিধান প্রতিটি ধর্মের অধিকার রক্ষার ভিত্তি এবং কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত দেশের বৈচিত্র্য বিশ্বের কাছে এক মূল্যবান সম্পদ।

তিনি বলেন, “সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়”— এই আদর্শকে আইন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনজীবনে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজে তাঁদের আপন করে নেওয়াও জরুরি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিটি জেলায় আন্তঃধর্মীয় পরিষদ গঠন, শিক্ষাক্রমে যৌথ ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে তৃণমূল স্তরে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন তিনি।

আমেরিকা সফরে হাজি সালমান চিশতি দ্য চার্চ অফ জেসাস ক্রাইস্ট অফ ল্যাটার-ডে সেইন্টসের প্রেসিডেন্ট ড্যালিন এইচ ওকসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি আজমের শরিফের শুভেচ্ছা এবং খাজা গরিব নওয়াজের ভালোবাসা, সেবা ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন।

উটাহে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। আমেরিকার সমাজে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করে ভারতের ঐক্য, বৈচিত্র্য, সেবা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের আয়োজক ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট সি. শেন রিস, আইন অনুষদের ডিন ডেভিড এইচ মুর, অধ্যাপক ব্রেট জি. শার্ফস, অধ্যাপক এলিজাবেথ এ. ক্লার্ক, অধ্যাপক ডব্লিউ. কোল ডারহাম জুনিয়র-সহ আয়োজক দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাজি সালমান চিশতি। ছাত্র-স্বেচ্ছাসেবকদের আতিথেয়তা ও সহযোগিতারও বিশেষ প্রশংসা করেন তিনি।

হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি ভারতের আজমের শরিফ দরগাহের ২৬তম প্রজন্মের গদ্দিনশিন এবং চিশতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, শান্তি ও মানবিক সেবার প্রসারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।


শেহতীয়া খবৰ