একটি পরিবারের মূল্যবোধ থেকে প্রশাসনের শীর্ষে নাগাথ তাবাসসুম আবরুর যাত্রা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
নাগাথ তাবাসসুম আবরু
নাগাথ তাবাসসুম আবরু
 
সাবিহা ফাতিমা / বেঙ্গালুরু

একটি সুশৃঙ্খল, প্রগতিশীল ও মূল্যবোধনির্ভর পরিবারের পরিবেশ কীভাবে একজন সাধারণ গৃহবধূকে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পৌঁছে দিতে পারে, তারই অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ নাগাথ তাবাসসুম আবরুর জীবনকাহিনি। নাগাথ তাবাসসুম আবরুর নামের সঙ্গে IAS পরিচয় যুক্ত হওয়ার বহু আগে, তিনি ছিলেন শুধুই আবরু। এমন এক পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা, যেখানে সাফল্যকে কখনও ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হতো না, বরং তা ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। পরিবারে ধর্মীয় মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, হাসি ও ভালোবাসা একে অপরের পরিপূরক ছিল। আজও তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার পাশাপাশি পরিবারের সুদৃঢ় ভিত্তির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।
 
তিনি প্রায়ই বলেন, “একটি শিশুকে বড় করে তুলতে একটি গোটা গ্রামের প্রয়োজন হয়, এমন কথা বলা হয়। আমার ক্ষেত্রে সেটাই সত্যি ছিল। আমার সাফল্যে মনে হয় আমি শুধু স্টিয়ারিং হুইলটা ধরেছিলাম, বাকি সবকিছু আগেই নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল।”
 
নাগাথ তাবাসসুম আবরু
 
আবরু পড়াশোনা করেছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। বেঙ্গালুরুকেন্দ্রিক দুটি অত্যন্ত প্রগতিশীল পরিবার, পিতৃকুল ও মাতৃকুল, তাঁর বেড়ে ওঠার ভিত্তি ছিল। তাঁর দাদু ছিলেন একজন পশুচিকিৎসক। দাদু-দিদিমা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। এমন এক সময়ে, যখন ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য ছিল সাধারণ ঘটনা, তাঁদের পরিবারে তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তাঁর পিসি ও মাসিরা এমন সময়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, যখন নারীদের উচ্চশিক্ষা ছিল বিরল। তাঁদের পরিবারে সাফল্য ছিল স্বাভাবিক, আর শিক্ষা ছিল পবিত্র।
 
ধর্ম তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, তবে তা কোনো আদেশ বা চাপ হিসেবে নয়; বরং জীবনচর্চার একটি দর্শন হিসেবে। ফজরের নামাজের পর সকাল সাতটা পর্যন্ত বই-ই ছিল তাঁর একমাত্র সঙ্গী। তারপর এক ঘণ্টা আরবি শিক্ষা, এরপর স্কুল। শৃঙ্খলা ছিল তাঁর জীবনের স্বাভাবিক অংশ; কেউ তা কঠোরভাবে চাপিয়ে দেয়নি। এটাই ছিল তাঁদের পারিবারিক সংস্কৃতি। প্রতিদিন বিকেল চারটায় দিদিমার হাতে তৈরি নাশতার সুগন্ধে বাড়ির সব শিশুরা তাঁর দেওয়ানের চারপাশে জড়ো হয়ে যেত। নাশতার সঙ্গে থাকত নানা গল্প, নবীদের জীবন, নৈতিকতা এবং জীবনের পরীক্ষার কাহিনি। প্রতিটি গল্পের শেষে থাকত একটি শিক্ষা। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনির মাধ্যমে তিনি ‘নফস’-এর ধারণা সম্পর্কে জেনেছিলেন, অনেক আগেই যখন শব্দটির গভীরতা পুরোপুরি বুঝে ওঠেননি। দিদিমা বলতেন, “ফেরেশতারা তো সবসময় ইবাদতই করে। কিন্তু মানুষকে পরীক্ষা দিতে হয়, দুনিয়ার কাজ সামলিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। যদি তুমি দুনিয়ায় সফল না হও, তাহলে আখিরাতে কীভাবে শ্রেষ্ঠ হবে?” তাঁদের পরিবারে ধর্মীয় চর্চা কখনোই পার্থিব সাফল্য থেকে আলাদা ছিল না।
 
একটি অনুষ্ঠানে নাগাথ তাবাসসুম আবরু
 
তাঁর বাবা ছিলেন পোস্টমাস্টার এবং মা ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। তাঁদের মধ্যে এমন গভীর বোঝাপড়া ছিল যে, সাপ্তাহিক খাবারের তালিকাও দু’জনে আলোচনা করেই ঠিক করতেন। রবিবারে তাঁর বাবা প্রায়ই মৃদু হেসে বলতেন, “ছয় দিন তুমি পরিবারের জন্য রান্না করেছ। সপ্তম দিনে...” আর সেই সপ্তম দিনে তিনি নিজেই রান্নাঘরে ঢুকে পড়তেন। সেই সময়ে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু তাঁদের পরিবারে এটি ছিল একেবারে স্বাভাবিক। আবরু এখনও মনে করতে পারেন, কীভাবে তাঁর বাবা খাবারে একটু বেশি মসলা, এক চামচ বেশি ঘি যোগ করে সাধারণ রান্নাকেও উৎসবের রূপ দিতেন, যেন ভালোবাসাকেই রান্নার পাত্রে মিশিয়ে দিচ্ছেন।
 
তিনি সন্তানদের স্নান করাতেন, গৃহস্থালির কাজ সামলাতেন। প্রতি মাসে নিজের পুরো বেতন স্ত্রীর হাতে তুলে দিতেন। যদি দশ টাকাও কম থাকত, তাঁর মা তা জানতে চাইতেন, সন্দেহ থেকে নয়, বরং স্বচ্ছতার জন্য। আলোচনা ছিল নিয়মিত, যোগাযোগ ছিল সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত। ফলে সম্পর্কের মধ্যে ক্ষোভ জমার কোনো সুযোগই থাকত না। ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন তাঁদের শেখানো হয়নি; তাঁরা তা প্রতিদিনের জীবনে অনুভব করেছেন। তাঁদের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মা বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং এক বছরের মধ্যেই তিনিও পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। এই অসাধারণ ভিত্তির জন্য আবরু তাঁর বাবা-মা এবং আল্লাহর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। রবিবার ছিল পরিবারের জন্য বিশেষ দিন। বাবার পছন্দ ইংরেজি সিনেমা, মায়ের পছন্দ হিন্দি চলচ্চিত্র। কখনও নাটক দেখতে যাওয়া, কখনও হোটেলে খাওয়া, একটি সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবার। আবরুর বিশ্বাস, এই স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশই তাঁকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
 
একটি নলেজ শেয়ারিং সেশনে নাগাথ তাবাসসুম আবরু
 
বিয়ের আগেই তিনি কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (KPSC) পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় তিনি পরীক্ষায় বসেননি। তাঁর বাবার কথা এখনও তাঁর কানে বাজে, “জীবনকে এত হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এই পরিষেবাগুলোর প্রতি তোমার আগ্রহের কথা আমাদের জানানো উচিত ছিল।” তিনি বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আবার চেষ্টা করবেন। সুযোগ এল, তবে পরের বছর নয়, প্রায় দশ বছর পরে। ততদিনে তিনি বিবাহিত, তুমকুরে সংসারী এবং তিন কন্যার মা। এক প্রতিবেশী হঠাৎ করেই তাঁকে KPSC পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে বলেন। দশ বছর ধরে তিনি কলম ধরেননি। সংসার ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় ডুবে ছিলেন। প্রবন্ধ লেখা যেন অনেক দূরের বিষয়, আর আত্মবিশ্বাস যেন ডায়াপার ও গৃহস্থালির ব্যস্ততার নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। তবুও তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
 
১৯৯৬ সালে মূল পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের সময় তাঁর ছোট মেয়ের বয়স ছিল মাত্র এক মাস। তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি প্রায়ই বলেন, তাঁর সামনে দুটি পথ ছিল, একটি সহজ ও বিলাসবহুল জীবন, অথবা জনসেবার জীবন। তিনি বেছে নিয়েছিলেন জনসেবার পথ। ১৯৯৭ সালে তিনি কর্ণাটক প্রশাসনিক পরিষেবার (KAS) কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং কোলারে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (IAS)-এ অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সালে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত নাগাথ তাবাসসুম আবরুর কর্মজীবন রূপান্তরমূলক প্রশাসনের প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁর নিজের ভাষায়, “এটি বেতনপ্রাপ্ত সামাজিক সেবা।”
 
নাগাথ তাবাসসুম আবরু একটি রাজ্যস্তরের কর্মশালায়
 
২০০১ সালে কর্ণাটক রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রধান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেন, নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা মূলধারায় আসার বহু আগেই। পরে, টোটাল স্যানিটেশন ক্যাম্পেইনের (TSC) পরিচালক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে কর্ণাটক প্রথমবারের মতো ৪২৬টি নির্মল গ্রাম পঞ্চায়েত পুরস্কার অর্জন করে। এটি ছিল তাঁর পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মুহূর্ত। তিনি KSWAN, ই-প্রকিউরমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং বেঙ্গালুরু ওয়ান-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেগুলোর ওপর আজও রাজ্য সরকার নির্ভরশীল।
 
রাজ্যের সমস্ত আর্থিক লেনদেনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ধারণাও তিনিই প্রথম উত্থাপন করেন, যার ফলশ্রুতিতে ‘খাজানে-২’ ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। কোভিড মহামারির সময় সুবর্ণ আরোগ্য সুরক্ষা ট্রাস্টের প্রধান হিসেবে তিনি আয়ুষ্মান ভারত আরোগ্য কর্ণাটক প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরের পরও তাঁকে মেয়াদ বৃদ্ধি দেওয়া হয়।
 
তাঁর সময়ে নারীদের জন্য সম্মানজনক পেশা বলতে মূলত ডাক্তার বা শিক্ষিকাকেই বোঝানো হতো। অফিসে কর্মরত নারীদের অনেক সময় সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তিনি যখন স্কুটার চালাতেন, তখন তা ছিল বিরল দৃশ্য। নানারকম সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাঁকে। একবার কেউ তাঁর জীবনযাপন নিয়ে পরিবারের প্রবীণদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বড় খালা দৃঢ়ভাবে জবাব দিয়েছিলেন, “ওঁকে বিচার করার মানদণ্ড আলাদা।” আর সত্যিই তাই ছিল।
 
কন্যাদের সঙ্গে নাগাথ তাবাসসুম আবরু
 
তিনি প্রায়ই কেরালার প্রথম মুসলিম নারী IAS কর্মকর্তা শামীম বানুর কথা উল্লেখ করেন। কর্ণাটকেও আবরু নিজের মতো করে অনেক প্রথমের পথ তৈরি করেছেন, নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে। তিনি বলেন, “নারীরাই অনেক সময় নিজেদের জন্য বাধা তৈরি করে। সমাজ কী বলছে তা নিয়ে বেশি ভাববেন না। শুরুতে সমাজ আপনাকে টেনে নামানোর চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল মানুষের পাশেই দাঁড়ায়।” তাঁর মতে, পরিবার থেকেও যে চাপ আসে, সাফল্য অর্জনের পর সেটাই একসময় সমর্থনে রূপান্তরিত হয়। তিনি বলেন, “আমরা কাঠ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরো বনটাই ভুলে যাই।” আমরা ব্যক্তির সাফল্য উদ্‌যাপন করি, কিন্তু পরিবারের অবদান ভুলে যাই।
 
তাঁর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, মাধ্যমিক, PUC, স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং অন্যান্য মাইলফলক, পুরো পরিবার মিলে উদ্‌যাপন করত। চাচা, পিসি , মামা ও মাসিদের কাছ থেকে আসত উপহার। উৎসাহ ছিল সবার সম্মিলিত অবদান। প্রতিটি উদ্‌যাপন তাঁকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছে। সাফল্যকে কখনোই শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখা হয়নি; বরং আরও বড় দায়িত্বের পথে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমানের একক পরিবার বা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি সংস্কৃতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, যৌথ পরিবার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখান থেকেই শেখা যায় সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং সহমর্মিতা।
 
তিনি বলেন, “আমরা সন্তানদের শুধু ধর্মীয় নির্দেশ দিচ্ছি, কিন্তু ধর্মের অর্থ ও তাৎপর্য বোঝাচ্ছি না। এখানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হারিয়ে ফেলছি।” তাঁর নিজের কন্যারাই এর প্রমাণ। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন MBA ডিগ্রিধারী। তিনি এমইএস কলেজে পড়াশোনা করেছেন, ১৯৮৬ সালে ইউজিসি ফেলোশিপ লাভ করেছেন, বিয়ে করেছেন, তিন কন্যাকে বড় করেছেন, এবং তবুও নিজের উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তাঁর বিশ্বাস, জাত বা ধর্ম কখনোই প্রতিভার সীমা নির্ধারণ করে না।
 

তাঁর বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট, নারীদের নিজেদেরই রোল মডেল হয়ে উঠতে হবে। আমরা যদি এগিয়ে না যাই, তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের বহু নারীও পিছিয়ে পড়বেন। নারীরা সফল হলে সমাজের বহু কুসংস্কার ও নিষেধাজ্ঞা ভেঙে যায়। চতুর্থ প্রজন্মের শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেওয়া আবরুর কাছে বিয়ে কখনোই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
 
আজ তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পথ দেখান ও পরামর্শ দেন। তিনি বারবার একটি কথাই বলেন, “পারিবারিক সমর্থনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি পরিবারগুলিকে অনুরোধ করেন এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে, যেখানে স্বামী-স্ত্রী ঐক্যের জন্য একসঙ্গে কাজ করেন, যেখানে আধিপত্য নয় বরং আলোচনা স্থান পায়, যেখানে সাফল্যকে উদ্‌যাপন করা হয়, যেখানে ধর্মকে অর্থবহভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং যেখানে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। শুধু সফল সন্তান গড়ে তোলার জন্য নয়, বরং ভালো মানুষ তৈরি করার জন্য।
 
আর যখন মানুষ তাঁর জীবনযাত্রাকে অসাধারণ বলে অভিহিত করে, তখন তিনি মৃদু হেসে বলেন, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পরিবারের স্বাভাবিক ফলাফল।” আর হয়তো সেটাই সবচেয়ে অসাধারণ বিষয়।