গেরুয়া ঢেউয়েও ভাঙেনি সব ঘাঁটি, বরাক উপত্যকায় ৪ সংখ্যালঘু প্রার্থীর জয় কংগ্রেসের
শতানন্দ ভট্টাচার্য
সারা দেশজুড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্রবল জোয়ার থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকা-র মোট ১৩টি আসনের মধ্যে চারজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে জয়ী হয়েছেন। বিজেপি ৯টি আসনে জয় পেয়ে ১৯৯১ সালের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছে। সে সময় রাম মন্দিরকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী আবহে বিজেপি বরাক উপত্যকার ১৫টির মধ্যে ৯টি আসন দখল করেছিল।
এবার সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আসন সংখ্যা কমলেও বিজেপির জয়ের সংখ্যা কমেনি। জেতা ৯টি আসনের মধ্যে ৬টি কাছাড় জেলা-তে। এছাড়া হাইলাকান্দি জেলা-তে একটি এবং শ্রীভূমি জেলা-তে দুটি আসন পেয়েছে বিজেপি।কৌশিক রায় লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি কংগ্রেস প্রার্থী শান্তি কুমার সিং-কে ৯৯,৪০০ ভোটে পরাজিত করেন। লক্ষ্মীপুরের ইতিহাসে এত বড় জয়ের নজির নেই। কৌশিক রায় মোট ১,২৫,৩০২ ভোট পান।
শিলচর-এও বিজেপি রেকর্ড গড়ে। ২২ রাউন্ড গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থী ড. রাজদ্বীপ রায় তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের অভিজিৎ পাল-কে ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারান। তিনি প্রায় ১,১০,০০০ ভোট লাভ করেন।বরখলা এবং কাটিগড়া কেন্দ্রেও বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২১ রাউন্ড গণনার শেষে কাটিগড়ার বিজেপি প্রার্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ৩৪ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তিনি ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি ভোট পান।বরখলায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থী অমিত কালোয়ার পরাজিত হন এবং বিজেপি প্রার্থী কিশোর নাথ বড় ব্যবধানে জয় পান। ২০১৬ সালে মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়া কিশোর নাথ এবার ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেন।উধারবন্দ কেন্দ্রেও বিজেপি প্রার্থী রাজদীপ গোয়ালা রেকর্ড গড়ে জয়ী হন। তিনি ১,০২,১৮৫ ভোট পান। ১৮ রাউন্ড শেষে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং পান ৬৫,৩০২ ভোট। রাজদীপের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৭,৪৮৩ ভোট।ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অমিয়কান্তি দাস জয়ী হন। কংগ্রেস প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৮ রাউন্ড শেষে অমিয়কান্তি পান ৯৯,৭৬০ ভোট, আর ধ্রুবজ্যোতি পান ৫৫,৮১৯ ভোট।

কাছাড় জেলা-তে কংগ্রেসের মুখ রক্ষা করেন একমাত্র আমিনুল হক লস্কর। সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি করিম উদ্দিন বড়ভুঁইয়া-কে ২৭,২৪৯ ভোটে পরাজিত করেন। ১৯ রাউন্ড শেষে আমিনুল হক লস্কর পান ৮৯,৬৪৫ ভোট এবং করিম উদ্দিন বড়ভুঁইয়া পান ৬২,৩৯৬ ভোট।কাছাড় জেলা-র ছয়টি আসনের পাশাপাশি শ্রীভূমি জেলা-র পাথারকান্দি ও রামকৃষ্ণনগর কেন্দ্রেও বিপুল জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পাথারকান্দিতে বিজেপি প্রার্থী ও মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বড় ব্যবধানে জয়ী হন।রামকৃষ্ণনগরে বিজেপি প্রার্থী বিজয় মালাকার কংগ্রেস প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে হারান। তিনি ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ভোট পান।
হাইলাকান্দি কেন্দ্রেও বিজেপির জয় নিশ্চিত করেন মিলন দাস। তিনি রাজ্যের অন্যতম ধনী প্রার্থী কংগ্রেসের রাহুল রায়-কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।অন্যদিকে এই জেলার আলগাপুর-কাটলিছড়া কেন্দ্রে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে জয় পায়। অসম গণ পরিষদের জাকির হোসেন পরাজিত হন যুব কংগ্রেস নেতা জুবের এনামের কাছে।
এছাড়া উত্তর করিমগঞ্জ ও দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনও দখল করতে সক্ষম হয় কংগ্রেস। বিজেপির প্রবল ঝড়ের মাঝেও উত্তর করিমগঞ্জে নিজের আসন ধরে রাখেন কংগ্রেস প্রার্থী জাকারিয়া আহমেদ পান্না। দক্ষিণ করিমগঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী আমিনুর রশিদ চৌধুরী জয়ী হয়ে দলের পতাকা উড়িয়ে রাখেন।