শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
সংসারের দায়-দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও থামতে রাজি নন পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের কার্তিক। কাঠের কাজই তাঁর রুজি–রোজগার, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত হাতে হাতুড়ি-রেন্ডি নিয়েই চলে লড়াই। সেই কাজের শেষে, শরীরের আর এক ফোঁটা শক্তি বাঁচিয়ে রেখে নেমে পড়েন অনুশীলনে—কারণ ওয়েটলিফটার হওয়ার স্বপ্ন এখনও অক্ষুণ্ণ।
অভাবের আঁধারে বড় হওয়া এই তরুণ কোনওদিনই পাননি পুষ্টিকর খাবার বা নিয়মিত প্রোটিন। ভাত-পান্তাই ছিল শক্তি জোগানোর ভরসা। তবুও নিজের মনের জোরেই গড়ে তুলেছেন সুঠাম দেহ। দিনের পর দিন কঠিন পরিশ্রম যেন আরও শাণিয়ে দিয়েছে তাঁর ইচ্ছে-শক্তিকে। সংসারে স্ত্রী-সন্তান, দায়িত্ব প্রচুর—তবুও স্বপ্নের কাছে মাথা নত করেননি কার্তিক।
দিনভর কাঠের ফার্নিচার তৈরির কাজ শেষে বিকেলে তিনি ফিরেন তাঁর সত্যিকারের পৃথিবীতে—ওজন তুলতে। কয়েকশো কেজির ডাম্বেল অনায়াসে তুলতে পারেন তিনি। তাঁর কোচিং নেই, নেই উন্নত সরঞ্জাম—তবুও নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলছেন প্রতিটি দিনের অনুশীলন।
কার্তিকের লক্ষ্য স্পষ্ট—একদিন ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়েটলিফটিং প্রতিযোগিতায় নামা। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও পরিচিত করতে চান নিজের নাম, গ্রামের নাম। বাস্তবের বাধা, আর্থিক সংকট, সংস্থান-অভাব কিছুই থামাতে পারেনি তাঁর পথচলা। কাঠের কাজের মতোই তিনি নিজের স্বপ্নকেও গড়ছেন ধৈর্য, পরিশ্রম আর অবিচল বিশ্বাসে।
সংসারের চাপ আর কষ্টের মধ্যেও কার্তিকের এই জেদ আর অধ্যবসায় জানলে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই—এমনটাই বলছেন এলাকার বাসিন্দারা।