কলকাতায় পা রাখছেন লিওনেল মেসি, শহর জুড়ে উৎসবের আবহ—টিকিট না পেলেও বাড়িতে বসেই দেখুন ‘ম্যাজিক’
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
কলকাতা যেন আজ এক অনন্য উত্তেজনায় মুড়ে আছে। শহরজুড়ে আলো, ব্যানার, ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল—সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের আমেজ। কারণ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তাতেই শহরের মাটিতে নামছেন ফুটবল দুনিয়ার সম্রাট লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপজয়ী তারকার এ সফর ঘিরে উত্তেজনা শুধু মাঠে নয়, সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রতিটি কলকাতাবাসীর মনেও তুঙ্গে।
২০১১ সালে প্রথম কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। তখন তিনি উঠতি কিংবদন্তি। আজ, ২০২৫—এ শহর তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে এক বিশ্ববিজয়ী অবতার হিসেবে। তাই আবেগের মাত্রাও কয়েক গুণ বেড়েছে।ম্যাচের টিকিট পাওয়ার জন্য হাহাকার পড়েছিল এক সপ্তাহ ধরেই। অনেকেই টিকিট না পেয়ে হতাশ। তবে তাঁদের জন্যও সুখবর—মেসির কলকাতা সফরের সব অনুষ্ঠানই দেখা যাবে সনি লিভ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে। শুধু প্রয়োজন সক্রিয় সাবস্ক্রিপশন।
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর রাত ১টা নাগাদ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর) মেসির চার্টার্ড বিমান পৌঁছবে কলকাতায়। বিমানবন্দর এলাকাতেও বিশেষ নিরাপত্তা এবং স্বাগত কর্মসূচি রাখা হয়েছে। মধ্যরাতেই শহরের ধুকপুকানি যেন আরও জোরালো হতে চলেছে। মেসির কলকাতা সফরের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হবে ১৩ ডিসেম্বর।সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে স্পনসরদের অনুষ্ঠানে হাজির হবেন তিনি।
এরপর যাত্রা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পথে। সকাল ১০টায় তাঁর পৌঁছনোর কথা সেখানে। মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ‘মেসি অল স্টার’ প্রস্তুতি ম্যাচ—মোহনবাগান মেসি অল স্টার বনাম ডায়মন্ড হারবার মেসি অল স্টার। ম্যাচ শেষে দুই দলের ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করবেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
যুবভারতী থেকে সোজা মেসি পৌঁছবেন লেকটাউনে। সেখানে তাঁর ৭০ ফুট উচ্চতার মূর্তি উন্মোচন করা হবে—যা কলকাতার ক্রীড়াঐতিহ্যে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করবে নিঃসন্দেহে। রাস্তাজুড়ে তাই চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা।
সব কর্মসূচি সেরে দুপুর ২টো নাগাদ মেসি উড়ে যাবেন হায়দরাবাদে। এরপর তাঁর সফরের আরও স্টপেজ মুম্বই ও দিল্লি। শোনা যাচ্ছে, সফরের মধ্যে বলিউড তারকা শাহরুখ খান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা আজ শুধু একজন ফুটবলারের আগমন দেখছে না—দেখছে এক ইতিহাসের পরবর্তী অধ্যায়। ‘ফুটবল দেবতা’কে দেখার অপেক্ষায় শহর দাঁড়িয়ে আছে মধ্যরাতের দোরগোড়ায়। টিকিট থাক বা না থাক, মেসি-জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে চায়ের দোকান থেকে মেট্রো স্টেশন—সব জায়গায়।