পশ্চিমবঙ্গে শ্রমজীবী মহিলা এবার বিধায়ক: কলিতা মাঝি আউশগ্রাম থেকে ইতিহাস গড়লেন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 h ago
পশ্চিমবঙ্গে শ্রমজীবী মহিলা এবার বিধায়ক: কলিতা মাঝি আউশগ্রাম থেকে ইতিহাস গড়লেন
পশ্চিমবঙ্গে শ্রমজীবী মহিলা এবার বিধায়ক: কলিতা মাঝি আউশগ্রাম থেকে ইতিহাস গড়লেন
 
ওনিকা মাহেশ্বরী,নয়াদিল্লিঃ 

পশ্চিমবঙ্গ-র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছে এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প, যা যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। এটি কলিতা মাঝি-র গল্প—যিনি কঠোর সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সামাজিক ও আর্থিক বাধা অতিক্রম করে বিধানসভা পর্যন্ত পৌঁছেছেন।তিনি শ্রমজীবী নারী, পেশায় পরিচারিকা কলিতা মাঝি ।

যে হাতে একসময় অন্যের বাড়িতে বাসন মাজা, ঝাড়ু ও ঘর পরিষ্কারের কাজ হতো, আজ সেই হাতেই মানুষ তুলে দিয়েছেন নিজেদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব। কলিতা মাঝি আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েছেন। তাঁর এই জয় আবারও প্রমাণ করল, গণতন্ত্রে পরিশ্রম ও নিষ্ঠা থাকলে যে কেউ সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে পারেন।

রাজনীতিতে আসার আগে কলিতা মাঝি প্রায় দুই দশক ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ২ থেকে ৪টি বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বাসন মাজার কাজ করতেন, যার মাধ্যমে মাসে প্রায় ২,৫০০ টাকা উপার্জন করতেন। এই সীমিত আয় দিয়েই তিনি পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়েছেন এবং জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কলিতা মাঝি শ্যামা প্রসন্ন লোহার-কে ১২,৫৩৫ ভোটে পরাজিত করে জয় লাভ করেন। আউশগ্রাম (তফসিলি জাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্রের এই লড়াইয়ে তিনি মোট ১,০৭,৬৯২ ভোট পান, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্যামা প্রসন্ন লোহার পান ৯৫,১৫৭ ভোট।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে চঞ্চল কুমার মাঝি পান ১৬,৪৭৮ ভোট, তাপস বরাল পান ২,০৮২ ভোট এবং নির্দল প্রার্থী নিহার কুমার হাজরা পান ৯৯৪ ভোট।

এই জয়ের পর বিজেপি নেতা পি. সি. মোহন সামাজিক মাধ্যম X-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি বিজেপি-র এমন এক শক্তির উদাহরণ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসে অনুপ্রেরণার গল্প লিখতে পারেন।
কলিতা মাঝির রাজনৈতিক যাত্রাও বেশ অনুপ্রেরণামূলক। তিনি গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। বুথ স্তরের কর্মী হিসেবে শুরু করে ধীরে ধীরে দলের মধ্যে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনেও লড়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

জয়ের পর তিনি বলেন, “এটি সাধারণ মানুষের জয়। মানুষ আমাকে আশীর্বাদ ও ভালোবাসা দিয়ে ভোট দিয়েছেন, তাই আজ এই জয় সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আউশগ্রামে এলাকার ঘাটতি পূরণ, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফায়ার ব্রিগেড ব্যবস্থা, হাসপাতাল নির্মাণ এবং জলসংকট দূর করাই তাঁর অগ্রাধিকার হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল। তখন তিনি প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেলেও প্রায় ১২ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু হার না মেনে মানুষের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ফল এবার ঐতিহাসিক জয় হিসেবে সামনে এসেছে।

আউশগ্রামের মতো এলাকায়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক প্রভাব ছিল, সেখানে কলিতা মাঝির এই জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়—এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও বড় বার্তা। তাঁর এই গল্প প্রমাণ করে, ভারতীয় গণতন্ত্রে পরিশ্রম, সংগ্রাম ও স্বপ্ন থাকলে সাফল্যের দরজা সবার জন্য খোলা।