জলপাইগুড়ি:
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ির চালসার বাতাবাড়ি মহাবারি চার্চে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “জাতপাতের রাজনীতি করি না।” এদিন চার্চের মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, বাংলায় সব ধর্মের মানুষের সমান সম্মান ও অধিকার রয়েছে এবং এখানকার মানুষ উৎসব-অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেন।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সফরে গিয়ে ওই চার্চে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী চালসার ওই চার্চে গেলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি চার্চের ফাদারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, চার্চের এই অনুষ্ঠান থেকেই কার্যত উত্তরবঙ্গে নিজের জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিন তিনি বাংলার সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, “পুজো, ঈদ, বড়দিন সব উৎসবেই বাংলার মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করে।”
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রার্থনা সঙ্গীতেও গলা মেলান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানাতে ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্যের আয়োজন করা হয়, যেখানে তিনি উপস্থিত থেকে শিল্পীদের উৎসাহ দেন। চালসা উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ের অন্তর্গত হওয়ায় এদিন চা শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
গুড ফ্রাইডে উপলক্ষে সরকারি ছুটি প্রসঙ্গেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকায় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে চালসার চার্চ থেকে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।