পুরুলিয়া ঃ
শনিবার পর্যন্ত পুরুলিয়ায় পারদ ঘোরাফেরা করছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা ছিল ৩ ডিগ্রির ঘরে। রবিবার পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে দার্জিলিংয়ে তা ছিল ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শীত মরসুমে পুরুলিয়া নিয়মিতভাবেই কালিম্পং ও গ্যাংটকের তুলনায় কম তাপমাত্রা রেকর্ড করছে।
এক আধিকারিক জানান,“রবিবার সকালে অযোধ্যা পাহাড়ের চূড়ায় সীতাকুণ্ড এলাকায় ঘাসের ওপর তুষারজাতীয় আস্তরণ দেখা যায়। পাশাপাশি, কাছাকাছি একটি রিসর্টের গাড়িও সাদা বরফের স্তরে ঢাকা ছিল।”
তিনি আরও বলেন,“বান্দোয়ানের ডাঙা গ্রাম, ঝালদা–খামার রোডের সতীমেলা এলাকা এবং মুর্গুমা রুটে বেগুনকোদর পঞ্চায়েতের সুপুরদি গ্রাম থেকেও তুষার জমার খবর পাওয়া গেছে।”এই বিরল দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা বিস্মিত ও আনন্দিত।
স্থানীয় বাসিন্দা মোনালিসা মাহাতো বলেন,“ঠান্ডা আমরা উপভোগ করছি। খড়ের গাদা পুরোপুরি বরফে ঢেকে গেছে। পুরুলিয়ায় এমন দৃশ্য দেখব ভাবতেই পারিনি।”
পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানান, এই ঘটনাকে তুষারপাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
তিনি বলেন,“এটি আসলে ফ্রস্ট ডিপোজিশন। তাপমাত্রা শূন্যের উপরে থাকলেও যদি তা ৫ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে, তবে যেকোনো জায়গাতেই এমন তুষার জমতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ, দূষণমুক্ত বাতাস এবং বাতাসের গতি কম থাকা—যা গত কয়েকদিন ধরেই পুরুলিয়ায় দেখা যাচ্ছে।”
আরশা নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট স্কুলের ভূগোল শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মিশ্র জানান,“যখন শিশিরাঙ্ক শূন্য ডিগ্রির নিচে নেমে যায়, তখন জলীয় বাষ্প তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বরফের কণায় রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়াতেই গ্রাউন্ড ফ্রস্ট তৈরি হয়।”
এদিকে, তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক সোমনাথ মহাপাত্র বলেন,
“চলতি বছরে পুরুলিয়ার শীত সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আগে কখনও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামেনি।”