দ্বিতীয় দফার ভোটে নজরদারি জোরদার, ভিন্রাজ্য থেকে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কড়া করতে নতুন করে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই এ বারের নির্বাচনে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল, যা অতীতের তুলনায় অনেকটাই বেশি। দ্বিতীয় দফাকে সামনে রেখে সেই সংখ্যাই আরও বাড়ানো হল।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ভোটে কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ ওঠায় দ্বিতীয় দফায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। তাই স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা সকলেই ভিন্রাজ্য থেকে আসছেন, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের উপরই।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই পর্যবেক্ষক সংখ্যা বাড়ানোসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের দাবি, মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন গোলমালের খবর সামনে এসেছে—কোথাও এজেন্টদের বাধা, কোথাও ইভিএম বিভ্রাট, আবার কোথাও ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সব মিলিয়ে ভোটদানের হার ছিল নজরকাড়া—৯২.৮৮ শতাংশ। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এত বেশি ভোট পড়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
এ বার বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফাতেও যাতে বিপুল সংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ করেন, সে জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও আরও জোরদার করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বহু বছর পর এ রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের দিন ঘোষণার সময়ই কমিশন স্পষ্ট করেছিল, দফা কমানো হলেও নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করা হবে না।
সেই মতো ২৯৪টি আসনের জন্য আলাদা সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে—যা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।