চায়ের ছাঁকনি হাতে রাস্তায় বিজেপি কর্মীরা! সুযোগসন্ধানীদের রুখতে কড়া দাওয়াই গেরুয়া শিবিরের

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 7 h ago
চায়ের ছাঁকনি হাতে রাস্তায় বিজেপি কর্মীরা! সুযোগসন্ধানীদের রুখতে কড়া দাওয়াই গেরুয়া শিবিরের
চায়ের ছাঁকনি হাতে রাস্তায় বিজেপি কর্মীরা! সুযোগসন্ধানীদের রুখতে কড়া দাওয়াই গেরুয়া শিবিরের
 
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ

নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে জয়ের আনন্দের চেয়েও চিন্তার ভাঁজ বিজেপিকর্মীদের কপালে।  মঙ্গলবার বিকেলে অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদ মিছিলের সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। মিছিলে বিজেপির দলীয় পতাকার পাশাপাশি কর্মীদের হাতে দেখা গেল চায়ের ছাঁকনি। জানা যায়, বিজেপি কর্মীদের এই অভিনব ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’ আসলে দলের ভেতরে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদীদের ছেঁকে ফেলার এক প্রতীকী লড়াই।
 
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হঠাৎ গেরুয়া আবির মেখে পরিবর্তেনর হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিতে বিজেপি শিবিরে ভিড় বাড়ছে। আর এই হঠাৎ করে তৈরি হওয়া ভিড়ই এখন পুরনো ও লড়াকু কর্মীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, যারা এতদিন অন্য দলের হয়ে বিজেপির ওপর হামলা চালিয়েছে, তারাই এখন রাতারাতি গেরুয়া আবির মেখে নব্য বিজেপি সেজে দলে ঢুকে পড়ছে। অভিযোগ উঠছে, এই সুযোগসন্ধানীরাই বিজেপির পতাকা তুলে ধরে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অশান্তি ছড়াচ্ছে। যে ঘটনার দায়ভার এসে পড়ছে দলের হয়ে দীর্ঘ লড়াই দেওয়া বিজেপি কর্মীদের  ওপর।
 
এই ছাকনি প্রতিবাদের উদ্দেশ্য নিয়ে বিজেপি কর্মীদের যুক্তি, চায়ের ছাঁকনি যেমন অপ্রয়োজনীয় নোংরা অংশটুকু আলাদা করতে পারে ঠিক তেমনই দলকে ‘বেনোজল’ মুক্ত করতে হবে ছাকনির মত করে। মিছিলে অংশ নেওয়া দীর্ঘদিনের এক লড়াকু বিজেপি কর্মী জানালেন, "এরা কারা, এরা নিজেরাও জানে না। এদের চিনে রাখা দরকার। আজ আমরা ছাঁকনি নিয়ে বেরিয়েছি এই বার্তাই দিতে যে, দলে কোনো দুষ্কৃতীর জায়গা নেই। আমরা রক্ত দিয়ে দল গড়েছি, আর একদল লোক এসে অশান্তি করে আমাদের বদনাম করবে, তা হতে দেওয়া যাবে না।"
অশোকনগরের ভোট পরবর্তী অশান্তি ঠেকাতে ইতিমধ্যে বিজেপির জয়ী প্রার্থী ডাঃ সুময় হীরা কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, দলের শৃঙ্খলা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। জয়ী বিধায়কের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রশাসনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশকেও বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, যাতে নবাগতদের আড়ালে কোনো সমাজবিরোধী গোলমাল করতে না পারে। প্রতিবাদী বিজেপি নেতা বললেন, এই প্রতীকী প্রতিবাদ আসলে দলকে স্বচ্ছ রাখার এক ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অশোকনগরের এই ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’ আসলে সুবিধাবাদীদের জন্য কঠোর বার্তা। ক্ষমতার যে দল আ সুক না কেন সুবিধাবাদীদের আনাগোনা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কিন্তু দলের নীচু স্তরের কর্মীদের এই প্রতিরোধ ক্ষমতা দলের ভবিষ্যৎ ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক সংকেত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই প্রতীকী প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত কতখানি কার্যকর হয় এখন সেটাই দেখার।