কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ও মুসলিম ভোটপ্রবণ আসনগুলোতে বরাবরের মতোই বড় প্রভাব বজায় রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৩৮ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। যার সিংহভাগই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী। অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি।
রাজধানী কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তৃণমূলের প্রবীণ মুসলিম নেতারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। কসবা বিধানসভা আসনে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও বিদায়ী বিধায়ক আহমেদ জাভেদ খান আবারও জয়ী হয়েছেন। কলকাতার আরেক হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম ৫৬ হাজার ৪৯০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া মেটিয়াব্রুজ কেন্দ্রে তৃণমূলের আব্দুল খালেক মোল্লা ৮৭ হাজার ৮৭৯ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ দাপট দেখা গেছে। জলঙ্গী থেকে বাবর আলি, হরিহরপাড়া থেকে নিয়ামত সেখ এবং সামশেরগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ নূর আলম জয়ী হয়েছেন। তবে রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্রে ভিন্ন মেরুকরণ দেখা গেছে; সেখানে জয় পেয়েছেন এজেইউপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীর।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা কেন্দ্রে তৃণমূলের আনিসুর রহমান বিদেশ, হাড়োয়া থেকে আব্দুল মাতিন এবং বসিরহাট উত্তর থেকে তৌসিফুর রহমান ঘাসফুল শিবিরের জয় নিশ্চিত করেছেন।
তৃণমূলের দাপটের মধ্যেও আলোচনায় উঠে এসেছেন আইএসএফ-এর নওসাদ সিদ্দিকী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে তিনি বিধানসভায় বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়া মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ও রানীনগর থেকে কংগ্রেসের মাহাতাব শেখ ও জুলফিকার আলি জয়ী হয়েছেন। বাম শিবির থেকে সিপিআইএমের একমাত্র মুসলিম বিজয়ী প্রার্থী হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান রানা, যিনি ডোমকল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও তৃণমূলের মুসলিম প্রার্থীদের জয়ের মিছিল দীর্ঘ হয়েছে। চোপড়া থেকে হামিদুল রহমান, গোয়ালপোখর থেকে গোলাম রব্বানী, সুজাপুর থেকে সাবিনা ইয়াসমিন এবং লালগোলা থেকে ডক্টর আব্দুল আজিজ জয়ী হয়েছেন। বীরভূমের হাসন কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন কাজল শেখ।
বিধানসভায় বিজয়ী মুসলিম নেতাদের তালিকা- জাভেদ খান, কসবা; ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা বন্দর; আবদুল খালেক মোল্লা, মেটিয়াব্রুজ; বাবর আলি, জলঙ্গী; নিয়ামত সেখ, হরিহরপাড়া; মুহাম্মদ নূর আলম, শামশেরগঞ্জ; মুস্তাফিজুর রহমান, ভরতপুর; বায়রন বিশ্বাস, সাগরদিঘি; হুমায়ুন কবীর, রেজিনগর ও নওদা; আনিসুর রহমান বিদেশ, দেগঙ্গা; আবদুল মাতিন, হাড়োয়া; তৌসিফুর রহমান, বসিরহাট উত্তর; নওসাদ সিদ্দিকী, ভাঙড়; বাহারুল ইসলাম, ক্যানিং পূর্ব; শামীম আহমেদ, মগরাহাট পশ্চিম; সাবিনা ইয়াসমিন, সুজাপুর; কাজল শেখ, বীরভূমের হাসন; মাহাতাব শেখ, ফারাক্কা; জুলফিকার আলি, রাণীনগর; মোস্তাফিজুর রহমান রানা, ডোমকল; হামিদুল রহমান, চোপড়া; মো. গোলাম রব্বানী, গোয়ালপোখর; আজাদ মিনহাজুল আরফিন, চাকুলিয়া; মোশারফ হোসেন, ইটাহার; তোরাফ হোসেন মণ্ডল, কুমারগঞ্জ; মো. মতিউর রহমান, হরিশ্চন্দ্রপুর; আব্দুর রহিম বক্সি, মালতিপুর; ইসলাম মো. নজরুল, মোথাবাড়ি; আখরুজ্জামান, রঘুনাথগঞ্জ; আব্দুল আজিজ ডক্টর, লালগোলা; রেয়াত হোসেন সরকার, ভগবানগোলা; রুকবানুর রহমান, পলাশিপাড়া; আলিফা আহমেদ, কালীগঞ্জ; জেবের সেখ, চাপড়া; বুরহানুল মুকাদ্দিম (লিটন), বাদুড়িয়া; মোহাম্মদ কাসেম সিদ্দিকী, আমডাঙা; গুলশান মল্লিক ইউনুস, পাঁচলা; ড. মোশারফ হোসেন, মুরারই।