সমাজের জন্য আব্দুল মাতিন যা করেছেন জানলে শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে, এমন মানুষকে প্রার্থী করেই ‘মাষ্টারস্ট্রোক’ তৃণমূলের
তরুণ নন্দী / কলকাতা
বাংলার রাজনীতির ময়দানে তৃণমূল এমন এক প্রার্থীকে নির্বাচন করছে যার অতীত জানলে শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিন। তিনি মোটেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত নন, মুফতি আব্দুল মাতিন মূলত একজন সুপরিচিত ধর্মতত্ত্ববিদ ও সুবক্তা।
বহুদিন ধরেই তিনি উত্তর ২৪ পরগনা সহ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। বিশেষ করে 'অল ইন্ডিয়া সুন্নাত আল জামায়াত'-এর অন্যতম মুখ তিনি। বলা ভালো, এই মানুষটিকে দেখলে অনেকেই শ্রদ্ধায় দুহাত কপালে ঠেকান।
আব্দুল মাতিন সাহেব আসলে সেই বিরল মানুষদের পড়েন, যারা সমাজকে বদলাতে শিক্ষার প্রসারে জোর দিয়েছেন। অনেকেই বলেন, আব্দুল মাতিন একজন আধুনিক শিক্ষাব্রতী মানুষ। মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে যার অবদান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোটা বাংলায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে তিনি ১৮টি বিদ্যালয় নির্মাণ করেছেন। যা আজ হাজার হাজার মেয়ের ভবিষ্যতের দিশারি।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁর পরিচালিত দুটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। মাদ্রাসা বোর্ড থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত তাঁর কাজের পরিসর দেখলে বোঝা যায় সমাজকে তিনি কোন নতুন পথের হদিস দিয়েছেন।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ধর্মতত্ত্ববিদ ও সমাজসেবী কেন সরাসরি রাজনীতির আঙিনায়? এই প্রশ্নের উত্তরে মাতিন সাহেবের যুক্তি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও স্বচ্ছ। তিনি মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠন দিয়ে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করার কাজটা বোধহয় কঠিন। সব অংশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা করতে গেলে প্রশাসনের অংশ হওয়া জরুরি। রাজনীতির মধ্যে দিয়ে এগোলে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা,উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সমাধান করা সম্ভব খুব সহজে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিন কয়েকজন ব্যাক্তির সঙ্গে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়াত হাজী নুরুল ইসলামের প্রয়াণের পর হাড়োয়ায় শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। যা টের পেয়ে তৃণমূল আব্দুল মাতিনের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকেই আদর্শ বিকল্প হিসেবে বেছে ‘মাষ্টারস্ট্রোক’ দিল। আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক জনসেবার মেলবন্ধন তৈরি করে তিনি রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আব্দুল মাতিন তৃণমূলের জন্য প্রকৃত ‘সম্পদ’ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর উপস্থিতি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ঘাসফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তিনি উন্নয়নের নিরিখে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন বলে মনে করছে হাড়োয়ার সিংহভাগ মানুষ।