শান্তিপূর্ণ ভোট ঃ পশ্চিমবঙ্গে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ
কলকাতা ঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার উত্তরপ্রদেশের অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা ও ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে, যা রাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্চ মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভোট নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চলছে। আগের নির্বাচনের মতো সহিংসতা এড়িয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই আপাতত কমিশনের লক্ষ্য।
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। এখন ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এই দফার আগেই ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন অজয় পাল শর্মা।অজয় পাল শর্মা ২০১১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা। তিনি পেশায় দাঁতের চিকিৎসক ছিলেন, পরে প্রশাসনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ভূমিকার কারণে তিনি পরিচিত ‘সিংঘম’ এবং ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। নয়ডা, রামপুর, শামলি, জৌনপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন অভিযানে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।২০২৫ সালে তিনি উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে উন্নীত হন এবং চলতি বছরে পুলিশ মহাপরিদর্শক হন। তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং কঠোর ভূমিকার কারণেই তাকে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।আগামী ভোটপর্ব ঘিরে এখন সবার নজর দক্ষিণবঙ্গের দিকে।
সব মিলিয়ে অজয় পাল শর্মার নিয়োগ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও হয়ে উঠেছে।