তেল-ধাতুর দামে আগুন, চাপে পাইকারি মূল্যস্ফীতি; আরও বাড়তে পারে WPI

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 9 d ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
নয়াদিল্লি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকায় এবং হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে ধাতুর মূল্য বৃদ্ধির ফলে আগামী মাসগুলোতে ভারতের পাইকারি মূল্যসূচক (WPI) আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অর্থনৈতিক গবেষণা শাখা।
 
রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্রুত শান্তিচুক্তি না হলে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার কারণে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি আরও উঁচুতে থাকতে পারে। পাশাপাশি টাকার মান দুর্বল হলে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। এখনও পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও বর্ষার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে তাতেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
 
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের পাইকারি মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩ শতাংশে, যা অক্টোবর ২০২২-এর পর সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের মার্চে ছিল ৩.৯ শতাংশ। মূলত জ্বালানি এবং উৎপাদিত পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে, যদিও খাদ্য মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।
 
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিল ২০২৬-এ ৪২ মাসের সর্বোচ্চ ২৪.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এক বছর আগে যেখানে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ঋণাত্মক ৩.৮ শতাংশ এবং মার্চ ২০২৬-এ ছিল ১.১ শতাংশ। খনিজ তেলের সূচকই এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে। গত বছরের ৫.৬ শতাংশ পতনের বিপরীতে এ বছর তা ৩৯.৫ শতাংশ বেড়েছে।
 
খনিজ তেলের মধ্যে বিমান জ্বালানির দাম বছরে ১০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এছাড়া ন্যাফথা, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেলের দামেও বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। কয়লার মূল্যস্ফীতিও ০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এপ্রিল ২০২৬-এ বছরে ৫৪.২ শতাংশ বেড়ে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
উৎপাদিত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সেপ্টেম্বর ২০২২-এর পর সর্বোচ্চ। গত বছরের এপ্রিল মাসে এটি ছিল ২.৬ শতাংশ এবং মার্চ ২০২৬-এ ছিল ৩.৪ শতাংশ। মোট ২২টি উপ-সূচকের মধ্যে ১৩টিতে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে বেসিক মেটাল, যন্ত্রপাতি, বস্ত্রশিল্প, রাসায়নিক, ওষুধ এবং অন্যান্য উৎপাদন খাত উল্লেখযোগ্য।
 
অ্যালুমিনিয়ামের দাম বছরে ১৯.২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে গত বছর এই বৃদ্ধি ছিল ৩.৯ শতাংশ। তামার মূল্যস্ফীতি ১৫.৩ শতাংশে স্থির রয়েছে। দস্তার মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৬.৩ শতাংশে নেমেছে এবং সিসার মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১.১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য ধাতুর দাম আরও দ্রুত বেড়েছে, অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়েছে ৫১.৮ শতাংশ এবং তামার দাম ৪১.১ শতাংশ।
 
এর ফলে কোর WPI মূল্যস্ফীতি এপ্রিল ২০২৬-এ বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ৪৩ মাসের সর্বোচ্চ। গত বছর এই হার ছিল ১.২ শতাংশ এবং মার্চ ২০২৬-এ ছিল ৩.৭ শতাংশ।
 
অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এ খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ২.৩ শতাংশে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩.৩ শতাংশ। খাদ্যশস্যের মূল্যস্ফীতি দুর্বল থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাদ্যশস্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ঋণাত্মক ১ শতাংশ। বিশেষ করে শস্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশ থেকে কমে ০.৩ শতাংশে নেমেছে এবং ডালের ক্ষেত্রে মূল্যহ্রাস অব্যাহত রয়েছে।
 
গমের মূল্যস্ফীতি গত বছরের ৭.৪ শতাংশ থেকে কমে ০.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সবজি, দুধ এবং ডিম-মাংস-মাছের দামে বৃদ্ধি দেখা গেছে। সবজির মূল্যস্ফীতি গত বছরের ঋণাত্মক ১৭.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। টমেটো, আদা, ফুলকপি এবং বাঁধাকপির দাম বৃদ্ধিই এর মূল কারণ। দুধের মূল্যস্ফীতি ১.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৬ শতাংশ হয়েছে এবং ডিম, মাংস ও মাছের মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ০.৩ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৬.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
 
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, দেশের খাদ্যশস্য মূল্যস্ফীতি এখনও দুর্বল হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বছরে ১২.৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চালের দাম কমার হারও আগের ৩১ শতাংশ থেকে কমে ৩.২ শতাংশে এসেছে। এই বৈপরীত্য আগামী মাসগুলোতে দেশের খাদ্যদ্রব্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।