ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে ‘৪০% মুসলিম ভোটার বাদ’—তীব্র বিতর্কে উত্তপ্ত রাজনীতি

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 10 d ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে—ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
 
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে সরাসরি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা যায়। যেহেতু এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নিজের কেন্দ্র, তাই বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
 
তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি হতে পারে না। তারা মনে করছেন, এর পিছনে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এক নেতা জানান, “ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
 
অন্যদিকে, বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেই তারা জানিয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল নিজেদের রাজনৈতিক দুর্বলতা ঢাকতেই এই ধরনের অভিযোগ তুলে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
 
এই বিতর্কের মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, তারা বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করলেও হঠাৎ করেই তাদের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এমন অভিযোগ সামনে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বিষয়টি সংখ্যালঘু ভোটারদের ঘিরে, তখন তা আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। তাদের মতে, এই ইস্যু নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে এবং ভোটের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
 
এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ‘৪০% মুসলিম ভোটার বাদ’ দাবিকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই এই ইস্যু নির্বাচনী প্রচারে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।