দলীয় পতাকা নিয়ে অশান্তি করলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করবে বিজেপি! পালাবদল হতেই শান্তি ফেরাতে কড়া বিজেপি নেতৃত্ব

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
দলীয় পতাকা নিয়ে অশান্তি করলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করবে বিজেপি! পালাবদল হতেই শান্তি ফেরাতে কড়া বিজেপি নেতৃত্ব
দলীয় পতাকা নিয়ে অশান্তি করলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করবে বিজেপি! পালাবদল হতেই শান্তি ফেরাতে কড়া বিজেপি নেতৃত্ব
 
তরুণ নন্দী, কলকাতা:

২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনমত নিয়ে বিজেপি বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে। ২০৭টি আসনে জয়লাভের পর বিজয়োল্লাসে মেতেছেন বিজেপি কর্মীরা। দিকে দিকে তৃণমূলের পতাকা ফেলে দেওয়া বা দলীয় অফিস দখল করার অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে দিল পদ্ম শিবির। ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধী দলের পার্টি অফিস দখল বা দাদাগিরি রুখতে দলীয় কর্মীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজেপির পতাকা নিয়ে কোনও প্রকার অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেলেই নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা। প্রয়োজনে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে ওই কর্মীদের।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসতেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার কড়া বার্তা দিয়ে দলীয় কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিরোধী দলের বুথ, পার্টি অফিস কিংবা সাইনবোর্ড দখল করার কোনও জায়গা এই নতুন বাংলায় নেই। শমীক ভট্টাচার্য একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে দলের কর্মীদের সাবধান করে বলেন, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতি কদর্য ভাষা ব্যবহার করলে তাকে দল থেকে বার করে দেব। এই অধিকার পার্টির সংবিধান আমাকে দিয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ যদি অটো স্ট্যান্ড, টোটো স্ট্যান্ড বা বাজার থেকে তোলাবাজি করার চেষ্টা করে তবে যেন কোনও রং না দেখে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়।

রাজ্য বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের এই কড়া অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে রাজ্যের জেলাগুলোতেও। সিউড়ির জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজেই রাস্তায় নেমে পড়েন অশান্তি রুখতে। সিউড়িতে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীরা পতাকা লাগাতে গেলে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তা খোলার নির্দেশ দিয়ে দেন। অন্যদিকে, বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে কাউকে যোগদান নয়। আর কোনও প্রকার ভাঙচুর অশান্তি বরদাস্ত করবে না দল।
 
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর আসতে থাকায় বিশেষ নজর রাখছে কলকাতা পুলিশ। সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর প্রচেষ্টা করা হলে কড়া হাতে দমন করার কথা বলা হয়েছে। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, গুজব ছড়ালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বলা যেতে পারে, একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরাই এখন বাংলার নতুন শাসক দল বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে এখন বিজেপির কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক শান্তি বজায় রাখা।