"যারা যেতে চায় যাক, তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়াবে”, পরাজয়ের পর কর্মীদের বার্তা মমতার
কলকাতা
বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলীয় সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলার ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা দল ছাড়তে চান তারা যেতে পারেন, কিন্তু তৃণমূল আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা অন্য দলে যেতে চাইছে, যাক। আমি আবার নতুন করে দল গড়ে তুলব। যারা আছো, তারা ভাঙা পার্টি অফিসগুলো মেরামত করো, রং করো এবং আবার খুলে দাও। প্রয়োজন হলে আমিও রং করব। তৃণমূল কংগ্রেস কখনও মাথা নত করবে না। মানুষের রায় লুট করা হয়েছে।”
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে শাসকদল থেকে বিরোধী শিবিরে চলে যেতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে দলটি মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ভবানীপুরে, যেখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয়, আর দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছেড়ে দেয় মিত্রদল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-র জন্য, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অনীত থাপা। তৃণমূলের ২১১ জন প্রার্থী পরাজিত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রী।
নির্বাচনের পর থেকেই দলীয় অন্দরে অসন্তোষ এবং দলবদলের জল্পনা বাড়তে থাকে। সেই আবহেই কালীঘাটের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় প্রার্থীদের মনোবল বাড়ানো এবং ঐক্যের বার্তা দিতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে সূত্রের খবর।
এর আগেও, ৫ মে ফল ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি জানি অনেকে অন্য দলে চলে যাবে। তাদের নিজস্ব বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। যে যেতে চায়, সে যেতে পারে। কাউকে জোর করে আটকে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি এক্স হ্যান্ডেল থেকেও বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে লেখা হয়, “অকল্পনীয় অত্যাচার ও লাগাতার ভয় দেখানোর মুখেও আমাদের প্রার্থীরা অসাধারণ সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এক পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ। মানুষের রায় যারা লুট করেছে, তাদের সামনে আমরা কখনও মাথা নত করব না। সত্যেরই জয় হবে।”
দলীয় পোস্টে ফের দাবি করা হয় যে নির্বাচনের জনমত “চুরি” করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ফল ঘোষণার পর থেকেই বারবার তুলে আসছেন তৃণমূল নেতারা।
দলীয় অন্দরমহলের মতে, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে এবং সংগঠনকে পুনর্গঠনের বার্তা দিতেই এই বৈঠকে লড়াকু মনোভাব তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।