ভোটার তালিকা থেকে প্রাক্তন বিচারপতির নাম উধাও, যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 3 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
কলকাতা

রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই নানা অভিযোগ উঠছিল নাম বাদ পড়া নিয়ে। সেই বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেল, যখন তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সাহিদুল্লা মুনসি কলকাতা হাইকোর্টের 'Calcutta High Court' প্রাক্তন বিচারপতি। ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং যাচাই ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
 
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে ভোটার তালিকার যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, সেই ব্যবস্থার মধ্যেই নাম বাদ পড়েছে এক প্রাক্তন বিচারপতির। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
 
সরকারি নথিতে তাঁর নাম বাদ পড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “নট ফাউন্ড” (Not found)। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন মুনসি। তাঁর দাবি, খসড়া তালিকায় নাম না থাকায় তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের বড় ছেলে, তিনজনই নিয়ম মেনে একাধিকবার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। এমনকি পাসপোর্টের মতো গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল। তবুও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নামের কোনো অস্তিত্ব নেই।
 
বর্তমানে রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুনসি জানান, তিনি বিচারপতি হিসেবে তাঁর পদমর্যাদার কোনো নথি পেশ করেননি, কারণ সেটি প্রয়োজনীয় তালিকার অংশ নয়। তবুও সমস্ত বৈধ পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরেও নাম বাদ পড়া তাঁর কাছে বিস্ময়কর।
 
এই ঘটনার পর তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাইবুনাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, কাগজে-কলমে ট্রাইবুনাল গঠিত হলেও বাস্তবে তার কার্যক্রম স্পষ্ট নয়। ফলে নাম পুনর্নিবন্ধনের জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে, সেই দিকনির্দেশনাই পরিষ্কার নয় বলে অভিযোগ তাঁর।
 
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুনসি ২০০০ সাল থেকেই কলকাতার ভোটার। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়ায় বিস্মিত তিনি।
 
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা কতটা বিস্তৃত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে তা বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।