ভোটের আগে কড়া বিধিনিষেধ—বাইক চলাচলে লাগাম টানল নির্বাচন কমিশন

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 d ago
ভোটের আগে কড়া বিধিনিষেধ—বাইক চলাচলে লাগাম টানল নির্বাচন কমিশন
ভোটের আগে কড়া বিধিনিষেধ—বাইক চলাচলে লাগাম টানল নির্বাচন কমিশন
 

শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে, বিশেষ করে রাজধানী কলকাতায়, বাইক চলাচল নিয়ে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম ‘বাইক র‍্যালি’ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।
 
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া যাবে না। এই সময়সীমার মধ্যে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য কোনও কারণে বাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো গেলেও, চালকের পিছনে কাউকে বসিয়ে যাতায়াত করা যাবে না। অর্থাৎ, দিনের বেলায়ও একা বাইক চালানোর অনুমতি থাকলেও, ‘পিলিয়ন রাইডার’ নিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
 
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল ভোটের আগে সম্ভাব্য অশান্তি, ভয় দেখানো বা বেআইনি জমায়েত ঠেকানো। অতীতে দেখা গিয়েছে, ভোটের আগে বা ভোটের দিন রাজনৈতিক দলগুলি বাইক মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় শক্তি প্রদর্শন করে, যা অনেক সময় সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
 
তবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পথে না হেঁটে, কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রেখেছে কমিশন। জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতাল যাওয়া, ওষুধ সংগ্রহ করা বা অন্য কোনও মেডিক্যাল এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। এছাড়া পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি—যেমন বিয়ে, অন্ত্যেষ্টি বা গুরুতর পারিবারিক প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
স্কুল পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। অভিভাবকরা শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া বা সেখান থেকে আনার জন্য বাইক ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।এদিকে ‘বাইক র‍্যালি’ নিয়ে কমিশনের অবস্থান একেবারেই কঠোর। কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন মোটরসাইকেলে চেপে মিছিল করতে পারবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পুলিশি নজরদারি বাড়িয়েছে এবং নিয়ম কার্যকর করতে বিশেষ টহলদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
 
এই বিধিনিষেধ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাইক বাহিনী দিয়ে দাপট দেখানোর প্রবণতা রুখতে এটি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে, কিছু মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যার আশঙ্কা করছেন, বিশেষ করে যারা কর্মসূত্রে বাইকের উপর নির্ভরশীল।
 
প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে আরও ছাড় দেওয়া হতে পারে, তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কড়া হচ্ছে নজরদারি। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে রাজ্যে ভোট কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।