নয়াদিল্লি:
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) প্রণয়নের পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, নারীদের উত্তরাধিকার অধিকারের জটিলতা সমাধানে ব্যক্তিগত আইন বাতিল করার বদলে আইনসভা দ্বারা নতুন আইন প্রণয়নই সঠিক পথ।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ সতর্ক করে বলেন, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ হঠাৎ করে বাতিল করলে একটি আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা উল্টো মুসলিম নারীদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই পর্যবেক্ষণ করা হয় একটি মামলার শুনানির সময়, যেখানে মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই আইনের কিছু বিধান মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, বিশেষ করে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, যেখানে সাধারণত নারীরা পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক অংশ পান। তাই এই বৈষম্যমূলক প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন যে মুসলিম পুরুষ ও নারীর মধ্যে উত্তরাধিকার ভাগের এই বৈষম্য মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, উত্তরাধিকার একটি দেওয়ানি অধিকার, এটি কোনও অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা নয়; তাই এটি সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি যেখানে একজন মুসলিম নারী একজন মুসলিম পুরুষের সমান অধিকার পান না, তা দেশে চলতে দেওয়া যায় না।
যদি ১৯৩৭ সালের আইনটি বাতিল করা হয় এবং আইনি শূন্যতা তৈরি হয়—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে ভূষণ প্রস্তাব দেন যে তখন ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে, যেখানে নারী ও পুরুষের জন্য সমান উত্তরাধিকার অধিকার রয়েছে।
বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি আর. মহাদেবনও ছিলেন। তাঁরা জানান, কোনও পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো ছাড়া শুধুমাত্র বিচারিক ক্ষমতায় ব্যক্তিগত আইন বাতিল করার বিষয়ে আদালতের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।