ভোটের লাইনে পোশাক ‘ফতোয়া’! লুঙ্গি পরে ভোট দিতে না পেরে নাতির প্যান্ট পরে ভোটাধিকার রক্ষা ৮০ বছরের আব্দুল রউফের
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
লুঙ্গি পরে ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লেন এক মুসলিম বৃদ্ধ। অভিযোগ, তাঁকে বলা হয়েছিল লুঙ্গি ছেড়ে অন্য পোষাক পরে ভোট দিতে আসতে। অগত্যা ১ মাইল পথ পেরিয়ে বাড়ি এসে নাতির প্যান্ট তবেই ফের গেলেন ফোট দিতে। বুধবার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গাইঘাটার গোবরডাঙার কুচুলিয়া প্রাথমিক স্কুলের একটা বুথের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। লুঙ্গি পরে ভোট দিতে যাওয়ায় এক বৃদ্ধ ভোটারকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বুথে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর দিকে।
গোবরডাঙার কুচুলিয়া এলাকার বর্ষিয়ান বাসিন্দা আব্দুল রউফ মণ্ডল চিরাচরিত পোশাক লুঙ্গি পরেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন। আব্দুল রউফের অভিযোগ, বুথের প্রবেশপথে তাঁর পোশাক দেখে আপত্তি তোলা হয়। আর লুঙ্গি পরে আসার কারণে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। ওই বৃদ্ধ ভোটার প্রতিবাদ জানালেও কাজ হয়নি। আশি ছুঁইছুঁই বয়সী আব্দুল রউফ মণ্ডলের চোখেমুখে তখন পোষাক ফতোয়া নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এত বছর বয়স হলো আমার। বিগত দিনে প্রত্যেক ভোটেই তো লুঙ্গি পরেই ভোট দিয়েছি। তাহলে এবার হঠাৎ তাঁর পোশাক নিয়ে সমস্যা কেন? লুঙ্গি পরে থাকার কারণে প্রতিবাদ জানানোর পরেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে এক মাইল পথ পেরিয়ে আসেন বাড়িতে। এরপর নিজের নাতির প্যান্ট কোনরকমে পরে ফের বুথে আসেন ভোট দিতে। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পরা মানুষটা হতাশ হয়ে বললেন, অল্প বয়সে প্যান্ট পরতাম, আজ জেদ করেই নাতির প্যান্ট পরে এসে ভোটটা দিলাম।
এই ঘটনার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হতেই দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হাসেম মণ্ডল জানালেন, আমাদের এই এলাকা কৃষিপ্রধান। তাই বেশিরভাগই কৃষিজীবী বা শ্রমজীবী মানুষ। আর এদের সকলেই লুঙ্গি পরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। একে কোনও ধর্মীয় মেরুকরণের চশমায় দেখা ভুল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারাসতের এসডিও ভুবনপ্রণীত পাপ্পুলা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোটের লাইনে এই ‘পোশাক ফতোয়া’ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি সাংবিধানিক অধিকারের ওপর এক অদৃশ্য হস্তক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দিনশেষে আব্দুল রউফ মণ্ডলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা বোধহয় আধুনিক গণতন্ত্রের গায়ে এক বড় কলঙ্ক তিলক এঁকে দিয়ে গেল।