শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
পশ্চিমবঙ্গ-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আজ, ২৯ এপ্রিল বুধবার, রাজ্যের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের এই বৃহৎ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন কোটি কোটি ভোটার, যা এই দফাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই দফায় যে জেলাগুলিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, হুগলী, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতা-এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশ। মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এই দফাকে অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরের করে তুলেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও এই দফা বেশ জমজমাট। মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করছেন। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১,২২৮ জন এবং মহিলা প্রার্থী রয়েছেন ২২০ জন। নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হলেও এখনও তা মোট সংখ্যার তুলনায় কম—যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
ভোটারদের পরিসংখ্যানও নজরকাড়া। এই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ৬৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬২৭ জন এবং মহিলা ভোটার ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪১৮ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৭৯২ জন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮০১ জন এবং শতবর্ষ পার করা ভোটারের সংখ্যা ৩,২৪৩ জন। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বয়স কোনো বাধা নয়—গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি প্রবীণদের আগ্রহ এখনও অটুট।
ভোট পরিচালনার জন্য মোট ৪১,০০১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক কেন্দ্র পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটার সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে বড় বিধানসভা কেন্দ্র হল হুগলির চুঁচুড়া, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭১৫ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র হল উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, যেখানে ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৭ হাজার ১৯৫ জন। এই বৈচিত্র্য রাজ্যের জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন।
প্রার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও কিছু কেন্দ্র বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্রে সর্বাধিক ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ভোটারদের জন্য বিকল্পের পরিসর বাড়িয়েছে। বিপরীতে গোঘাট কেন্দ্রে মাত্র ৫ জন প্রার্থী লড়াই করছেন, যা তুলনামূলকভাবে কম প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিপুল সংখ্যক ভোটার, প্রার্থী এবং কেন্দ্র নিয়ে এই দফা গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিশাল আয়োজন। এখন নজর থাকবে ভোটের হার, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ের দিকে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিক নির্ধারণ করবে।