গুয়াহাটিঃ
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬–এ টানা তৃতীয়বারের মতো জয় তুলে নিয়ে রাজনৈতিক দাপট বজায় রাখল বিজেপি। ১২৬ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে প্রয়োজন ৭৬টি আসন, সেখানে প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা বলছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অন্তত ৮২টি আসনে জয় বা এগিয়ে রয়েছে।
এই জয়ে সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে উঠেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। অন্যদিকে বড় ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ যোরহাট কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তাকেই অঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছিল কংগ্রেস।
ভোটের হিসাবে বিজেপি এককভাবে প্রায় ৩৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রায় সাড়ে ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৯টি আসনে জয়ী হতে চলেছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ মোট প্রায় ২২টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোটে ছিল অসম গণ পরিষদ, বড়োল্যান্ড পিপল্স ফ্রন্ট এবং রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চ। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘আসাম সম্মিলিত মোর্চা’য় ছিল অখিল গগৈয়ের রাইজর দল, আসাম জাতীয় পরিষদ, অল পার্টি হিল লিডার্স কনফারেন্স এবং বামপন্থী দলগুলো। পাশাপাশি বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’টি আসনে জয়ী।
বিশ্লেষকদের মতে, চা-শ্রমিকদের জন্য জমির পাট্টা প্রদান, মজুরি বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিজেপির জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বরাক উপত্যকা ও উজান অসমে ভোটের মেরুকরণও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বে জয় পেলেও পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের আস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এবার তার নেতৃত্বেই বিজেপি অসমে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পথে।