‘বর্ষীয়ান নেতা শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, নিন্দার ঝড় রাজ্যজুড়ে’

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 9 h ago
‘বর্ষীয়ান নেতা শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, নিন্দার ঝড় রাজ্যজুড়ে’
‘বর্ষীয়ান নেতা শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, নিন্দার ঝড় রাজ্যজুড়ে’
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা। একইসঙ্গে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে একজন সজ্জন, সংযত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা হিসেবেই চেনে রাজনৈতিক মহল। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন এবং তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬২ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন।
 
সম্প্রতি তাঁর বাড়ির বাইরে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দলের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শালীনতার উপরও আঘাত। ঘটনার পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, “শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আমাদের দলের অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রবীণ নেতা। তাঁর মতো মানুষের বিরুদ্ধে এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
 
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “দলের অভ্যন্তরে কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী নানা সময়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। এই ঘটনার পিছনেও সেই ধরনের শক্তির মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”দলের আরেক প্রবীণ নেতা সৌগত রায় বলেন, “মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন বর্ষীয়ান নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী। এই সংস্কৃতি বাংলার রাজনীতিতে কাম্য নয়।”মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “রাজনীতিতে শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শোভনদেববাবুর মতো একজন প্রবীণ নেতাকে অসম্মান করার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
 
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও কোনও অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ভয় দেখানোর রাজনীতি সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁরা মনে করছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মানুষের পাশে থেকেছেন। ফলে তাঁর বাড়ির সামনে এই ধরনের অশান্তি এলাকাবাসীর কাছেও অস্বস্তিকর ও অনভিপ্রেত।
 
ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের দাবি, যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
 
 
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, মতবিরোধ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভয় প্রদর্শন বা অসম্মানের ঘটনা কোনও সভ্য গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বার্তাই আরও একবার জোরালোভাবে সামনে এসেছে।