কাশ্মীরে শহীদ হলেন বীরভূমের অনুপম! জওয়ানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধন্দে পরিবার, কেঁদে ভাসাচ্ছে গোটা গ্রাম
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
কাশ্মীরে শহীদ হলেন বাংলার জওয়ান। বীরভূমের তরতাজা অনুপম মণ্ডলের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকার। অগ্নিবীর অনুপমের এভাবে চলে যাওয়া কারণ নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। বীরভূমের মল্লারপুর থানার সোঁজ গ্রামের বছর চব্বিশের তেজস্বী যুবক অনুপম মণ্ডলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলাজুড়ে। ২০২২ সালে দেশসেবার অদম্য জেদ নিয়ে ‘অগ্নিনির্ভর’ প্রকল্পে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন অনুপম। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন মাত্র ২৪ বছরেই থেমে গেল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মা মল্লিকা মণ্ডলের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল অনুপমের। সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু ওই দিন রাতেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফোন আসে বাড়িতে। রাতে পরিবারের সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় সেই ফোন ধরা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে যোগাযোগ করতেই জানা যায় শোকসংবাদ। জানানো হয়, জওয়ান অনুপম আর নেই।কিন্তু কীভাবে মৃত্যু এই বাংলার জওয়ানের? সেনার তরফে স্পষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি পরিবারের। কোনো সংঘর্ষ, নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা? সঠিক উত্তর পেতে সেনাবাহিনীর নানা স্তরের যোগাযোগের চেষ্টা করে চলেছেন অনুপমের পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে খবর, ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমের প্রতি আলাদা টান ছিল অনুপমের। এবার সরস্বতী পুজোর ছুটিতে বাড়ি এসে গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দারুন মজা করে গিয়েছিলেন। ছুটির শেষে কাশ্মীরের ডিউটিতে ফিরে যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিলেন, আবার ছুটি পেলেই চলে আসব। কিন্তু কে জানত সেটাই হবে তাঁর শেষ বিদায়? এমন হাশিখুশি যুবক অনুপমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা মল্লারপুর। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন শুধুই তাঁর বীরত্বের চর্চা চলছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সরকারিভাবে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি। অনুপমের শহীদ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশও অন্ধকারে। প্রশ্ন উঠছে, বীরভূমের এই 'শহীদ' সন্তানের মৃত্যুর সঠিক কারণ কি জানতে পারবে পরিবার? সোঁজ গ্রামের প্রতিটি মানুষ এখন অপেক্ষা করছেন অনুপমকে শেষবারের মত দেখতে। কাশ্মীরের সীমান্তে বাংলার এই জওয়ানের প্রদীপ অকালে নিভে গেলেও তাঁর দেশপ্রেমের কথা বীরভূমের ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে।