শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
অসমের কিংবদন্তী গায়ক জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যু শুধু অনুরাগী মহলকেই হতবাক করেনি, জন্ম দিয়েছে নানাবিধ প্রশ্নেরও। দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র? এর তদন্ত চলছে আলাদাভাবে, কিন্তু তার আগেই নেটদুনিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আরও এক নতুন বিতর্কে—সারেগামাপা খ্যাত দুই শিল্পী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য ও ময়ূরী দারানির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।
কোচবিহারে একটি লাইভ কনসার্টে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অঙ্কিতা জানান, তাঁকে জুবিন গার্গের গান রিকোয়েস্ট না করতে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—শোকের পর্দায় কারও মৃত্যু নিয়ে তিনি ‘ফুটেজ খেতে’ রাজি নন। উপস্থিত দর্শকদের সামনে এমন মন্তব্য শোনার পরই তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই অঙ্কিতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে না পেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। কারও কারও মতে, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য ‘অসময়োচিত'।
এবার সেই মন্তব্যকেই নাম না করেই কড়া ভাষায় আঘাত করলেন সারেগামাপা-র রানার্স আপ ময়ূরী দারানি। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জুবিন স্যারের গান গেয়ে আমি ফুটেজ খেতে পারব না—এ ধরনের লাইন শিল্প জগতের জন্য ধ্বংসাত্মক।’ তাঁর মতে, কেউ মারা গেলে তাঁর গান গাওয়া শ্রদ্ধার্ঘ্য, কৌশলগত প্রচার নয়। দেশের মানুষ জুবিনকে এতটাই ভালোবেসেছেন যে তাঁর গান গেয়ে শ্রোতাদের রিকোয়েস্ট মানা গর্বের বিষয়, ফুটেজ নয়।
অঙ্কিতাকে পরোক্ষে আক্রমণ করে ময়ূরী লিখেছেন, এমন মন্তব্য শিল্পী সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননা। তাঁর কথায়, ‘একজন জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে কীভাবে এমন কথা বলা যায়? এতে শুধু একজন-দুজন নয়, বরং বহু শিল্পীর সম্মানেই আঘাত লাগে।’ তিনি জানান—নিজে যতটা সম্মান ও শ্রদ্ধা অঙ্কিতাকে দিতেন, তা মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে গেছে।
ময়ূরীর প্রশ্ন, তাহলে কি জুবিনের গান গেয়ে সমস্ত শিল্পীরাই ফুটেজ খান? তাঁর মতে, প্রয়াত শিল্পীর গান গেয়ে তাঁকে স্মরণ করা শ্রদ্ধার বিষয়, সেটিকে অন্য চোখে দেখা উচিত নয়। বরং ‘শোকাহত মানুষের মন উজ্জীবিত করাই’ একজন শিল্পীর নৈতিক দায়িত্ব।
শেষে ময়ূরীর ঘোষণা, যাঁরা জুবিনের ভক্ত, তাঁরা থাকবেনই। সমালোচনা আসুক বা না-আসুক—‘আমরা জুবিন দার গান গাইবো, গাইবো, গাইবো।’ একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, শিল্পী হিসেবে তিনি এত বড় নন যে কারও আবেগকে অবমূল্যায়ন করবেন। কিন্তু শিল্পীর মর্যাদা ও শ্রদ্ধারক্ষায় তাঁর অবস্থান একটাই—শিল্পীর মৃত্যু কখনই প্রচারের হাতিয়ার হতে পারে না।
জুবিন গর্গের মৃত্যু তদন্তের পাশাপাশি এই নতুন শব্দযুদ্ধ এখন নেটদুনিয়ার কেন্দ্রে। দুই শিল্পীর ভিন্নমত ঘিরে তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের দুই শিবির—আর তারই মাঝখানে স্থির হয়ে আছে সেই প্রিয় নাম, যাঁর গান আজও মানুষের মন জুড়ে: জুবিন গার্গ।