শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
শুক্রবার মুক্তি পেল ‘গুস্তাখ ইশ্ক’, যেখানে প্রথমবার পর্দায় জুটি হিসেবে দেখা গেল ফাতিমা সানা শেখ এবং বিজয় বর্মাকে। পুরনো দিল্লিকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবি, আর প্রযোজনা করেছেন বলিউডের বিখ্যাত ডিজাইনার মণীশ মলহোত্রা, তাঁর প্রথম প্রযোজনা। কিন্তু নতুন জুটি, ছবি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জল্পনাকে ছাপিয়ে উঠে এলেন ফাতিমা তাঁর স্পষ্টবাদী অবস্থানের জন্য।
ফাতিমা বেড়ে উঠেছেন এক সংস্কৃতিগতভাবে ঐতিহ্যবাহী, ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়া পরিমণ্ডলে। এই পটভূমিতেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই গণ্ডি তাঁর মত প্রকাশকে কখনও আটকে রাখতে পারেনি। বরং নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নারীবাদ নিয়ে কথা বলেন খোলামেলা এবং যুক্তিবাদী কণ্ঠে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমাজে বহু মানুষই এখনও নারীবাদের অর্থ জানেন না। “পুরুষদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি কি নারীবাদী?’ তারা রেগে বলেন, ‘না!’ যেন শব্দটাই অপরাধ!”, মন্তব্য অভিনেত্রীর।
প্রতীকী ছবি
ফাতিমার মতে, নারীবাদ মানে কোনও বিশেষ লিঙ্গ বা ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বরং এটি সমান অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্ন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। নিজের আগের ছবি ‘ধক ধক’-এর কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, সংবেদনশীল দৃশ্য দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল পরিচালক মহিলা। পরে দেখেন, তিনি একজন পুরুষ। ফাতিমার কথায়, “উনি খুবই নারীবাদী পুরুষ। নারীবাদ পুরুষবিদ্বেষ নয়।”
সমাজে এখনও প্রচলিত কিছু পুরুষতান্ত্রিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধেও তিনি সরব। “মহিলারা মেয়েদের শত্রু”, এ ধরনের বাক্যবাণকে তিনি দেখেন সামাজিক মানসিকতার উৎপাদন হিসেবে। ফলে নারীবাদ শব্দটি প্রায়ই ভুল ব্যাখ্যার শিকার হয়। অন্যদিকে, সহ-অভিনেত্রী সম্পর্কে বিজয় বর্মা বলেন, ফাতিমা অত্যন্ত প্রতিভাবান, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা। প্রতিটি দৃশ্যে ১০০ শতাংশ দেন তিনি।
প্রতীকী ছবি
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যত গুঞ্জনই থাকুক, আলোচনার ভার এখন সরে যাচ্ছে অন্য দিকে। নিজের পরিচয়, ধর্মীয় সম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের গণ্ডি ভেঙে ফাতিমা যেভাবে নারীবাদ নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলেন, সেটাই আজ সবচেয়ে বড় খবর। তাঁর এই অবস্থান বলিউডের প্রচলিত সতর্কতা, দ্বিধা এবং নীরবতার বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট বার্তা।