শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
২০২৫ সালে ভারতের মধ্যে সর্বাধিক ভেগান–বন্ধু শহর হিসেবে কলকাতাকে মনোনীত করেছে PETA India। পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা, ঐতিহ্যগত উদ্ভিদনির্ভর বাঙালি রান্না এবং টেকসই ফ্যাশন শিল্পের বিকাশের ভিত্তিতে শহরটি এই সম্মান অর্জন করেছে। কলকাতার বহুদিনের খাদ্যসংস্কৃতি এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় উদ্যোগকে স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কারকে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা এমন একটি শহর, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই বহু ভেগান খাবারের ঐতিহ্য রয়েছে। বাঙালির প্রতিদিনের রান্নাঘরে ব্যবহৃত শুক্তো, চচ্চড়ি, ডাল–তরকারি, বিভিন্ন পিঠে বা নলেন গুড়ের প্রস্তুতিগুলি দীর্ঘদিন ধরে পশুজাত উপাদান ছাড়াই চলে আসছে। এই স্বাভাবিক খাদ্যধারা শহরকে আধুনিক ভেগান আন্দোলনের সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে প্লান্ট–বেসড রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, হোম–কিচেন এবং নানা খাদ্য–স্টার্টআপ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খাবারের নতুন পরীক্ষা–নিরীক্ষা এবং প্লান্ট–বেসড খাদ্যের গ্রহণযোগ্যতা এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
খাদ্যের পাশাপাশি টেকসই ফ্যাশনও কলকাতার ভেগান সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সিন্থেটিক লেদার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফাইবার, ক্রুয়েলটি–ফ্রি পণ্য এবং স্থানীয় শিল্পীদের হাত ধরে ভেগান ফ্যাশন এখন শহরের বাজারে একটি স্বাধীন জায়গা করে নিয়েছে। শহরের ডিজাইনার ও উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ নতুন ধারার ফ্যাশনশৈলীকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রাণী–অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক ও স্বেচ্ছাসংগঠনের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। বহু এনজিও, রেস্তোরাঁ মালিক, খাদ্যপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে সচেতনতা কর্মসূচি, ক্যাম্পেইন, উৎসব ও কর্মশালার মাধ্যমেও শহরে তৈরি হয়েছে পরিবেশ–বান্ধব জীবনধারার ব্যাপক প্রচার।
PETA India–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা আজ কেবল একটি মহানগর নয়, বরং এটি পরিবেশবান্ধব নগরায়ন, প্রাণী–স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎমুখী খাদ্যসংস্কৃতির প্রতীক। দেশের অন্য শহরের কাছে ভেগান–বান্ধব জীবনযাত্রার একটি সফল মডেল হিসেবেও কলকাতাকে দেখা হচ্ছে।
এই সম্মান ভবিষ্যতে শহরের উন্নয়ন ও পরিকল্পনাকে নতুন দিশা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেগান খাদ্য ও ফ্যাশনের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, টেকসই উদ্যোগের বিস্তার, এবং পরিবেশ সচেতন জীবনধারার প্রসারে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে ‘Most Vegan-Friendly City in India’ খেতাব অর্জন করে কলকাতা শুধু প্রশংসাই অর্জন করেনি, বরং পরিবেশ–বান্ধব শহর হিসেবে আরও দায়িত্বশীল উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।