রাশিয়ার তেলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 7 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
নয়া দিল্লি ঃ
 
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জাহাজে লোড করা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। জাহাজে ইতোমধ্যে লোড করা অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ আগে থেকেই কৌশলগত মজুত ভাণ্ডার থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই রাশিয়ার তেলের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ লাইসেন্স জারি করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বৃহৎ উদ্যোগের অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াতে জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের হুমকি মোকাবিলায়ও এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি জানান, এই ছাড় স্বল্পমেয়াদি এবং এতে রুশ সরকারের বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা হবে না।

জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য বীমা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে মার্কিন নৌবাহিনী।

এ ছাড়া তেলের সরবরাহ সহজ করতে জোন্স অ্যাক্ট সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বিদেশি জাহাজগুলো মার্কিন বন্দর ব্যবহার করে সহজে তেল ও কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবে।

হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর পর রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপের কারণে সেই নিষেধাজ্ঞার একটি অংশ সাময়িকভাবে শিথিল করা হলো।