প্রথম ভারত সফরে সিশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনি, দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক বন্ধনের নতুন অধ্যায়

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 Months ago
প্রথম ভারত সফরে সিশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনি
প্রথম ভারত সফরে সিশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনি
 
চেন্নাই (তামিলনাডু)

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সিশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনি বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে পৌঁছান। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। এই সফরকালে ভারত ও সিশেলস দুই দেশই তাদের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের জয়ন্তী উদ্‌যাপন করবে। তাঁর সফর চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
 
দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে, বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এক্স-এ (X) দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারত ও সিশেলসের দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রপতি ড. প্যাট্রিক হারমিনিকে ভারত সফরে চেন্নাইয়ে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
 
ভারত সফরকালে রাষ্ট্রপতি হারমিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। তিনি চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন বাণিজ্য উদ্যোগ ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
 
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সিশেলস ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী দেশ। ভারতের ‘মহাসাগর’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতি অঙ্গীকারে সিশেলস একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
 
২০২৫ সালের অক্টোবরে যখন প্যাট্রিক হারমিনি সিশেলসের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন, তখন ভারতের পক্ষ থেকে উপ-রাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তখনই দুই দেশের মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এবার তাঁর ভারত সফর দুই দেশের গভীর বন্ধুত্ব এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
ভারত ও সিশেলসের সম্পর্ক বহু পুরনো। মাত্র পাঁচজন ভারতীয় শ্রমিক কৃষিকাজের জন্য সিশেলসে গিয়েছিলেন, এবং তাঁদেরই সেই দ্বীপপুঞ্জের প্রাচীন অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 
একসময় সিশেলস ‘বোম্বে প্রেসিডেন্সি’র অধীনে শাসিত হতো এবং ভারতের মাধ্যমেই সেখানে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হতো। ইতিহাসের সে অধ্যায় পেরিয়ে আজ ভারত ও সিশেলসের সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার উপর। সামুদ্রিক সুরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জনগণ-জনগণের যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হারমিনির এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ভিত্তি দেবে বলে উভয় দেশই আশাবাদী।